ফিলিপ ডিফ্রিটাস

১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে ডোমিনিকার স্কটস হেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৮০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯৯০-এর দশকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলে অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, নিজেকে কখনো ইয়ান বোথামের ন্যায় আদর্শ অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি ঘটাতে পারেননি। বল হাতে নিয়ে উভয়দিক থেকেই সুইং আনয়ণে সক্ষম ছিলেন। সচরাচর, নিজ দেশে অধিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ব্যাট হাতে নিয়ে নিজের সেরা দিনগুলোয় মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটাতেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার ও লিচেস্টারশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮৫ সালে লিচেস্টারশায়ারের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাঁর। দ্রুত উত্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়াসিম আকরামের সাথে বোলিং উদ্বোধনে নামতেন ও সারের বিপক্ষে ওয়াকার ইউনুসের বিপক্ষে খেলেছিলেন।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯৭ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৪৪ টেস্ট ও ১০৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে তাঁকে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে যুক্ত করা হয়। ১৪ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক রিচার্ডসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩২ ও ৩/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ইয়ান বোথামের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১২ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/১২৮ ও ১/৩৬ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারের ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটিতে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরে ১ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে পার্থে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দারুণভাবে সফল হন। এরপর থেকেই পরবর্তী এক দশক ইংল্যান্ডের প্রধান সিম বোলারের নিজেকে পরিণত করেন।

১৯৯০ সালে নিজ দেশে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ১৯৯০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৮৬। বল হাতে নিয়ে ৫/৫৩ ও ১/০ লাভ করেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাইক অ্যাথার্টনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯১ সালে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৪ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৬৭ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ ও ৫৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। কার্টলি অ্যামব্রোসের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ সমতায় চলে আসে।

এরপর, ২৫ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের প্রথম ইনিংসের এক পর্যায়ে ওভার সম্পন্ন করতে না পারলে ক্রিস লুইস শেষ তিন বল বোলিং করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪০ ও ৩/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রিচি রিচার্ডসনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই বছর নিজ দেশে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৭/৭০ ও ১/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রুমেশ রত্নায়েকের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও অ্যালেক স্টুয়ার্টের ব্যাটিংনৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৩৭ রানে জয় পায়।

১৯৯১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ২২ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, ১৯৯৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক সিরিজে ২১ উইকেটের সন্ধান পান। কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২ জুন, ১৯৯৪ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে বিআর হার্টল্যান্ডের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪/৯৪ ও ৫/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৫১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গ্রাহাম গুচের দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯০ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৩০ জুন, ১৯৯৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৬১ ও ৩/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, এ সিরিজে ২১ উইকেট দখলসহ ১৩৪ রান সংগ্রহ করে ডিওন ন্যাশের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

ব্যাট নিয়ে আক্রমণাত্মক ধাঁচ অবলম্বন করে অ্যাডিলেডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮৮ রান তুলে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন।

১৯৯৫ সালে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৩ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮২ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইয়ান বিশপের অপূর্ব বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ১৪০ উইকেট ও ওডিআই থেকে ১১৫ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজিত হয়েছিল তাঁর দল। ওডিআইয়ে মিতব্যয়ী বোলিং করলেও তেমন উইকেটের সন্ধান পাননি। দেশের বাইরে তাঁর বোলিং ব্যাটসম্যানদের অনুকূলে ছিল। বিশেষতঃ খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ডমিনিক কর্কের উত্থানে তাঁর দলে ফেরার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। ১৯৯৭ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। তুলনামূলকভাবে কাউন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘদিন সফলতার সাথে খেলেছেন। লিচেস্টারশায়ারের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। এরপর, ডার্বিশায়ারের খেলার পর পুণরায় লিচেস্টারশায়ারে ফিরে যান। তন্মধ্যে, ২০০৩-০৪ মৌসুমে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *