৭ নভেম্বর, ১৮৮৯ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ক্রিকেটার, সৈনিক ও বিশ্বযুদ্ধের বীর ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ড দলের নেতৃত্বে ছিলেন।
এটনে অধ্যয়ন করেন। ফাস্ট বোলার হিসেবে ১৯০৭ ও ১৯০৮ সালে প্রথম একাদশে ঠাঁই পান। তিন বছর পর কোল্ডস্ট্রিম গার্ডসের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত হন। এক বছর পর রাইফেল ব্রিগেডে চলে যান। এ পর্যায়ে তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনবার আহত হন ও দুইবার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পান।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১৩ থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯১৯ থেকে ১৯৩২ সময়কালে চৌদ্দ মৌসুম হ্যাম্পশায়ার দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯১৩ সালের গ্রীষ্মে জাটল্যান্ডের যুদ্ধে নিহত লেফটেন্যান্ট সি. এইচ. অ্যাবারক্রম্বি’র সাথে দারুণ খেলেছিলেন ও সি. বি. ফ্রাইয়ের সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচিত হতেন। বিশ্বযুদ্ধ শেষে বোলার হিসেবে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে খেললেও সুবিধে করতে পারেননি। তবে, ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর বেশ উত্তরণ ঘটে।
১৯১৩ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯১৩-১৪ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। এমডব্লিউ বুথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৫৭ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২১ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ইংরেজ দলের অধিনায়করূপে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। তবে, এ সিরিজটি একচেটিয়া হয়েছিল। ওল্ড বন্ড স্ট্রিটের অ্যাম্বেসি ক্লাবে অবস্থানকালীন পরদিন লর্ডস টেস্ট খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। দল পরাজিত হলেও ৭৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন।
তিনি ৪ জুলাই, ১৯২১ তারিখে অনুষ্ঠিত সিরিজে প্রায় একাকী রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক হাতে খেলে ৬৩ ও ৩৬ রান তুলেছিলেন। এ মুহূর্তকে তিনি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের অন্যতম স্বর্ণালী মুহূর্তরূপে চিত্রিত করেছিলেন। একই সফরের ১৩ আগস্ট, ১৯২১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তাঁর দাদা আলফ্রেড লর্ড টেনিসন গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের বিখ্যাত কবি ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর ১৯২৮ সালে তৃতীয় ব্যারন টেনিসন পদবী ধারন করেন। ১৯৩৩ সালে নিজস্ব প্রথম আত্মজীবনী ‘ফ্রম ভার্স টু ওর্স’ প্রকাশ করেন। ১৯৫০ সালে দ্বিতীয় আত্মজীবনী ‘স্টিকি উইকেটস’ মুক্তি পায়।
৬ জুন, ১৯৫১ তারিখে সাসেক্সের বেক্সহিল-অন-সী এলাকায় ৬১ বছর ২১১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সিরিজের প্রথম টেস্ট চলাকালীন তাঁর শবানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাঁর স্মরণে কিছু সময়ের জন্যে খেলা বন্ধ রাখা হয়।
