|

এজি কৃপাল সিং

৬ আগস্ট, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

তামিলনাড়ুর অল-রাউন্ডার ছিলেন। মাদ্রাজের খ্যাতনামা শিখ ক্রিকেট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তামিলনাড়ুর দ্বিতীয় প্রজন্মের শিখ হিসেবে খেলেছিলেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেলেও নিজেকে কখনো শীর্ষস্তরের ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদ ও মাদ্রাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

পিতা রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী খেলায় অংশ নিয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভ করেছিলেন। তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা এজি মিল্খা সিং ভারতের পক্ষে ৪ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তৃতীয় ভ্রাতা সাতিন্দার তামিলনাড়ুর পক্ষে চমৎকার অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। তাঁর সন্তান শরণ কৃপাল ও অর্জন কৃপাল – উভয়েই তামিলনাড়ুর পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, অর্জন কৃপাল ডব্লিউভি রমনের সাথে একই ইনিংসে ত্রি-শতক রান সংগ্রহ করার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন।

অর্জন কৃপাল সিং দ্য হিন্দুতে এক স্বাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, আমার প্রপিতামহ মাদ্রাজে তামিলদের মধ্যে পারিবারিক নামের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত নাম রাখার কারণে এজি রেখেছিলেন। একমাত্র শিখ পরিবার হিসেবে সঠিকভাবে তামিল ভাষায় পারদর্শীতার কারণে বিশ্বের সর্বত্র পরিচিতি লাভ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তাঁরা তামিলনাড়ুর ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্য যে-কোন পরিবারের চেয়ে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেছিল।

৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করতে অগ্রসর হতেন। যে-কোন ধরনের স্ট্রোক খেলায় পারদর্শীতা দেখাতে পারতেন। বেশ ভালোমানের অফ-স্পিন বোলিং করতেন ও স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করতেন। তবে, মাঠের সর্বত্র যে-কোন অবস্থানে দণ্ডায়মান থাকতেন। এছাড়াও, ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ নভেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। নারায়ণ স্বামী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একমাত্র ইনিংসে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ৩/৪৩ ও ০/৯১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১৩৯ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে অগ্রসর হয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মন্তব্য করেন যে, বেশ ক্রিকেটীয় দক্ষতা তাঁর মাঝে বিরাজমান ছিল। উইকেটের অবস্থা বুঝতে পারতেন, খেলোয়াড়ের সদ্ব্যবহার করতে পারতেন। মহীশূরে উইকেট বেশ নমনীয় ছিল ও তিনি কেবলমাত্র অফ-স্পিনারদের খেলার সিদ্ধান্ত নেন। লেগি ভিভি কুমারই এ উইকেটের উপযোগীরূপে ঘোষণা করেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার ঐ খেলাটিতে দুইজন অফ-স্পিনার হিসেবে তিনি ও বেঙ্কটরাঘবন – উভয়েই ৪৮ ওভার বোলিং করে ১৮ উইকেটের ১৫টি নিজেদের অনুকূলে পান। প্রতিপক্ষ মহীশূর ৪৬ ও ৯৪ রানে গুটিয়ে যায়। রঞ্জী ট্রফির অপর তারকা খেলোয়াড় ভিভি কুমার মাত্র ২ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে সুরেশ মেনন লিখেছিলেন, তিনি কেবলমাত্র তামিলনাড়ুর সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন না; বরঞ্চ সূক্ষ্ম প্রতিভারও স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এ কৃপাল সিং ও এস কৃপাল সিং নামীয় সন্তানের জনক। ২২ জুলাই, ১৯৮৭ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে ৫৩ বছর ৩৫০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    তানজিম হাসান সাকিব

    ২০ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০২০-২১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিলেট স্ট্রাইকার্স, লিজেন্ডস অব…

  • | |

    অ্যাশলে উডকক

    ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ পর্যায়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত সদস্যের…

  • | |

    হ্যারি জাপ

    ১৯ নভেম্বর, ১৮৪১ তারিখে সারের ডর্কিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মূলতঃ রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। খুব দ্রুত ক্রিকেটে সহজাত দক্ষতার বিকাশে তৎপর হন। ১৮৬১ সালে সারে কোল্টসের পক্ষে খেলেন। ১৮৬২ সালেও তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি।…

  • | | |

    সিকে নায়ড়ু

    ৩১ অক্টোবর, ১৮৯৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯১৬-১৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    টিনো ময়োয়ু

    ৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে মনিকাল্যান্ডের আমটালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণ কর্মে এগিয়ে আসেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ও জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এরপূর্বেই অবশ্য প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পড়াশুনোয় মনোনিবেশ…

  • | | | |

    নজর মোহাম্মদ

    ৫ মার্চ, ১৯২১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে…