| | |

মাইক অ্যাথার্টন

২৩ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ফেইলসওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, সাংবাদিক ও লেখক। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী মাইকেল অ্যাথারটন ‘কোকরোচ’, ‘এফইসি’, ‘অ্যাথার্স’ কিংবা ‘ড্রেড’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ম্যানচেস্টার গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, কেমব্রিজের ডাউনিং কলেজে পড়াশুনো করেন। ১৯৮৭ থেকে ২০০১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৯ থেকে ২০০১ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১১৫ টেস্ট ও ৫৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৯ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ আগস্ট, ১৯৮৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। ডেভন ম্যালকমের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৪৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক টেলরের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮০ রান জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯০ সালে নিজ দেশে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৭ জুন, ১৯৯০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে জড়িত হন। প্রথম ইনিংসে টেস্টে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৭ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই সফরের ৫ জুলাই, ১৯৯০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮২ ও ৭০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ডেভন ম্যালকমের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১১৪ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ৩৫৭ রান তুলে রিচার্ড হ্যাডলি’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

১৯৯০-৯১ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪ জানুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১০৫ ও ৩* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২৮ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর বীরত্বপূর্ণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করলেও লর্ডসের টেস্ট অনার্স বোর্ডে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। তবে, ২০১৯ সালে লিমিটেড ওভার্স অনার্স বোর্ড যুক্ত করা হলে ক্রিকেটের স্বর্গভূমিতে তাঁর নাম ফুঁটে আসে। লর্ডসে তিনি সাতটি টেস্ট অর্ধ-শতক করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৯ রানে বিদেয় হয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে এ মাঠে তাঁর একমাত্র শতকের কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭৩ রানে জয় পায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড দল।

১৯৯৪ সালে নিজ দেশে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২ জুন, ১৯৯৪ তারিখে নটিংহামে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৬৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১০১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, গ্রাহাম গুচের দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯০ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৩০ জুন, ১৯৯৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, ১৯০৯ সালে এ.সি. ম্যাকলারিনের পর প্রথম ল্যাঙ্কাশায়ারীয় অধিনায়ক হিসেবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে দলকে নেতৃত্ব দেন। তবে, ফিলিপ ডিফ্রিটাসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

ওডিআই সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হবার পর দলীয় অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে টসে পরাজিত হলে সিরিজ নিষ্পত্তিতে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৬০ বল মোকাবেলায় ১২৭ রানের ইনিংস উপহার দেন। তাঁর এ ইনিংসে ১৪টি চার ও একটি ছক্কার মার ছিল। অপর কোন ইংরেজ ব্যাটসম্যানই ২৯-এর অধিক রান তুলতে পারেননি। নির্ধারিত ৫৫ ওভারে স্বাগতিক দল ২৬৭/৭ তুলে। এর জবাবে অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার ও ডোমিনিক কর্কের তোপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ২০৩ রানে গুটিয়ে যায়। ইংল্যান্ড জয়লাভের পাশাপাশি সিরিজ করায়ত্ত্ব করে। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

একই বছর নিজ দেশে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ আগস্ট, ১৯৯৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে আম্পায়ারের সাথে মতবিরোধের জের ধরে ১২৫০ পাউন্ড জরিমানার সম্মুখীন হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ০ ও ৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডেভন ম্যালকমের অনবদ্য বোলিংশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৯৫ সালে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯৯৫ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৪৭ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডোমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে সমতা চলে আসে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলার একমাত্র ইনিংসে তিনি ৭৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, তৃতীয় উইকেটে গ্রায়েম হিকের (১৪১) সাথে ১৪২ রানের জুটি গড়েছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ৩০ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে ৯৯ রানে থাকাকালে গ্যারি কার্স্টেন তাঁর ক্যাচ মুঠোয় পুড়তে ব্যর্থ হন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৫১ রান অতিক্রম করেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বোচ্চ টেস্ট রান হিসেবে চিত্রিত হয়ে পড়ে ও নিউ ওয়ান্ডারার্সে সর্বোচ্চ রান করেন। তাঁর এ ইনিংসটি ১০ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট স্থায়ী ছিল। খেলায় তিনি ৯ ও ১৮৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক রাসেলের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বের পাশাপাশি তাঁর দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি জ্যাক রাসেলের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৬ সালে নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৮ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, এ টেস্টে একবার বোলিং করে ১/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামকে এলবিডব্লিউতে বিদেয় করে টেস্টে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় উইকেটের সন্ধান পান। পাশাপাশি, তিনটি ক্যাচ ও একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ২২ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যাট হাতে নিয়ে ৩১ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের প্রথম দিন ২০ রানে থাকাকালীন ওয়াসিম আকরামের বলে আসিফ মুজতবা ক্যাচ ফেলে দিলে জীবন ফিরে পান। মুশতাক আহমেদের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮৩ রান সংগ্রহ করে দীপক প্যাটেলের শিকারে পরিণত হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৭ সালে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুন, ১৯৯৭ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ২ ও ৫৭* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, নাসের হুসাইনের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩ জুলাই, ১৯৯৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ২১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে বৃষ্টি ও মন্দালোকের কারণে সন্ধ্যে ৭.১০ ঘটিকা পর্যন্ত সময়সূচী বৃদ্ধি করা হয়। তবে, স্টিভ ওয়াহ’র জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৬৮ রানে পরাজয়বরণ করলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।

২০০০ সালে নিজ দেশে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩১ আগস্ট, ২০০০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮৩ ও ১০৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর চমৎকার ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১৫৮ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০১ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ আগস্ট, ২০০১ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শেন ওয়ার্নের অসাধারণ বোলিংয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৫ রানে পরাভূত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। স্কাই স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দলের সাথে যুক্ত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জোশ ডি কেয়ার্স নামীয় সন্তান লিডস/ব্রাডফোর্ড এমসিসিইউ’র পক্ষে খেলেছে ও ২৫ আগস্ট, ২০২০ তারিখে মিডলসেক্সের পক্ষে তিন বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

Similar Posts

  • |

    চার্লস ম্যারিয়ট

    ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৫ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের হিটন মুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। জন্ম নিবন্ধনে তিনি চার্লি স্টোওয়েল ম্যারিয়ট নামে পরিচিত। ‘ফাদার’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ…

  • |

    রে রবিনসন

    ২৬ মার্চ, ১৯১৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের স্টকটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্টকটন দলে খেলতেন ও স্বীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে তৎপর হন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে তৎকালীন সর্বোচ্চ ১৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে দ্বিতীয়ার্ধ্বে সিডনিভিত্তিক গর্ডন…

  • |

    কিসি কার্টি

    ১৯ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে সেন্ট মার্টিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২৫ বছর বয়সে মে, ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস সফরের জন্যে মনোনীত হন। এরফলে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলার সুযোগ পান। ৩১ মে,…

  • | |

    আলমগীর কবির

    ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠিত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে রাজশাহী বিভাগের…

  • | | |

    গ্যারি ব্যালেন্স

    ২২ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। পাশাপাশি, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘গাজ্জা’ ডাকনামে পরিচিত গ্যারি ব্যালেন্স জিম্বাবুয়ের ম্যারোন্ডেরাভিত্তিক পিটারহাউজে অধ্যয়নের পর হ্যারো স্কুলে পড়াশুনো করেন। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট…

  • |

    দিলীপ লিয়ানাগে

    ৬ জুন, ১৯৭২ তারিখে কালুতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাব ও কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব…