বিক্রম রাঠোর

২৬ মার্চ, ১৯৬৯ তারিখে পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হিমাচলপ্রদেশ ও পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে পাঞ্জাবের পক্ষে খেলেন ও নিয়মিতভাবে রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখান। কভার অঞ্চলেই অধিক হারে বল ঠেলে দিতেন ও পিছনের পায়ে ভর দিয়ে বলকে পুল করতে দক্ষতা প্রদর্শন করতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বড় ধরনের ইনিংস খেলেছেন। শ্রশ্ম্রুমণ্ডিত ও প্রায়শঃই সৌরটুপি পরিধান করে মাঠে নামতেন। দুইবার আড়াইশত রানের অধিক তুলেছেন। ২০০১-০২ মৌসুমের দিলীপ ট্রফিতে প্রতিপক্ষ পশ্চিমাঞ্চলের বিপক্ষে ২৪৯ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দিলেও দল পরাজিত হয়।

১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও সাতটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর প্রত্যেকটিতেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। সর্বদাই ইনিংসের প্রথম বল মোকাবেলা করেছিলেন। একটি বাদে সবকটিই বিদেশের মাটিতে ইংরেজদের সিম উপযোগী পিচ কিংবা পেসার উপযোগী দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খেলেছেন।

১৯৯৬ সালে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। বেঙ্কটেশ প্রসাদ, পরস হাম্ব্রেসুনীল জোশী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব প্রথম ইনিংসে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছিল। এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ২০ রান তুলতে সক্ষম হন। উভয় ইনিংসে তিনি ১২ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

দূর্ভাগ্যজনকভাবে ইংল্যান্ডের মাটিতে সুইং বলের বিপক্ষে তাঁকে বেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়। ডমিনিক কর্কের বলে স্লিপ অঞ্চলে বারবার বিদেয় নিতে হয়েছিল। বিস্ময়করভাবে ঐ সফরে কাউন্টি দলগুলোর বিপক্ষে ক্রমাগত সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। এ সফরে সর্বাধিক স্মরণীয় ইনিংস খেলেন। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ১৬৫ রান তুলেন। এ পর্যায়ে শচীন তেন্ডুলকর ও মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের সাথে শতরানের জুটি গড়েছিলেন। এছাড়াও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ রান করেন। ঐ সফরে ৪৭.৩৫ গড়ে ৮০৫ রান তুলেছিলেন।

মাত্র ১৩.১০ গড়ে রান তোলা ছাড়া আর কোন দূর্বলতা ছিল না। তবে, ক্ষুদ্রতর সংস্করণের খেলায়ও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভারতীয় একাদশের সদস্যরূপে ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে আরও একটি শতরানের ইনিংস খেলেন। একই খেলায় দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫০ রান তুলেন। কিন্তু, শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। এ সফরে বেশ ব্যর্থতার পরিচয় দেন। এছাড়াও, কয়েকটি ওডিআইয়ে অংশ নিলেও সীমিত পর্যায়ে সফল হয়েছিলেন।

দূর্ভাগ্যজনকভাবে দশম ইনিংসের পূর্ব পর্যন্ত তেমন ভালো খেলতে পারেননি। ঐ ইনিংসে অ্যালান ডোনাল্ড, শন পোলক ও ব্রায়ান ম্যাকমিলানের বল মোকাবেলা করে আড়াই ঘণ্টায় ৪৪ রান করেছিলেন। তবে, এটিই তাঁর সর্বশেষ ইনিংস ছিল। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রাহুল দ্রাবিড়ের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রানের বেশ ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছিলেন। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পরও ১৯৯৮-৯৯ ও ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে উপর্যুপরী সহস্রাধিক রান তুলেছেন। ২০০২-০৩ মৌসুম শেষে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ইংল্যান্ডে সাত বছর কাটান। এরপর পাঞ্জাব দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এক পর্যায়ে ভারতের বোলিং কোচ পরস হাম্ব্রের সাথে তিনি ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, সেপ্টেম্বর, ২০১২ সালে পাঁচ-সদস্যের জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ভারতীয় ক্রিকেটার আশীষ কাপুরের ভগ্নীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *