ম্যাট রেনশ’

২৮ মার্চ, ১৯৯৬ তারিখে ইয়র্কশায়ারের মিডলসবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার) উচ্চতার লিকলিকে গড়নের অধিকারী। ইয়ান রেনশ’ ও অ্যালিসন রেনশ’ দম্পতির সন্তান। ৭ বছর বয়সে পরিবারের সাথে নিউজিল্যান্ড ও ১০ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। স্থানীয় টুম্বাল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবে খেলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য ছিলেন। অক্টোবর, ২০১৪ সালে দলটির সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। কলম্বোয় একদিনের খেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ৭৩ রান তুলে স্বীয় দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে তৎপর হন। এছাড়াও, একই বছর ইংরেজ পরিবেশে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এমসিসি ইয়ং ক্রিকেটার্সের সদস্যরূপে যুক্ত থেকে দ্বিতীয় একাদশ চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নেন।

২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও ব্রিসবেন হিটের পক্ষে খেলেছেন। ১৩ মার্চ, ২০১৫ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সাউথ অস্ট্রেলিয়া বনাম কুইন্সল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ডিসেম্বর, ২০১৫ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। শক্তিধর নিউ সাউথ ওয়েলসের বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে কুইন্সল্যান্ডের কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। ব্লুজের পক্ষে ১৭০ রান তুলেন। কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে নিজস্ব প্রথম শেফিল্ড শীল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক হন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৪৩.৪১ গড়ে ৭৩৮ রান তুলেছিলেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমের গ্রীষ্মে শীল্ডের প্রথম খেলায় ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ১০৮ ও ৫০ রান তুলে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।

২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৪ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দিবা/রাত্রির তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। নিক ম্যাডিনসন ও পিটার হ্যান্ডসকম্বের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১০ ও ৩৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, উসমান খাজা’র ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলেও পূর্বেকার দুই টেস্টে পরাজয়ের ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০১৭ সালে প্রথম অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার হিসেবে ২১ বছর পূর্তির পূর্বেই ৫০০ টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৫২৪ রান তুলে ২১ বছরের পূর্বেই সর্বাধিক রান সংগ্রহের রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। এ বছর ভারত সফরে যান। পুনে টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাঠে নেমে অসুস্থতার কবলে পড়েন ও রিটায়ার হন। পরবর্তীতে মাঠে নেমে মনোরম অর্ধ-শতক হাঁকান।

একই বছর স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ ও ২২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, নাথান লায়নের স্মরণীয় বোলিংয়ের কল্যাণে ৭ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়।

২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩০ মার্চ, ২০১৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৪ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ভার্নন ফিল্যান্ডারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৪৯২ রানে পরাজয়বরণ করলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৬-২৭ মৌসুমে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৯ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে তৎপর হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯০ ও ৮২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ সাফল্যে স্বাগতিকরা ২১৪ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

বিখ্যাত ইংরেজ ব্যাটসম্যান জো রুট তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু। ক্রিকেটের বাইরে গল্ফে পারদর্শী।