ফফি উইলিয়ামস

১০ এপ্রিল, ১৯১৪ তারিখে বার্বাডোসের ব্যাংক হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৩৪-৩৫ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে বার্বাডোসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

১৯৩৯ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ১৯৩৯ সালে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। জেরি গোমেজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহসহ সমসংখ্যক ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। বল হাতে নিয়ে ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এ সফরে জর্জ হ্যাডলি’র পর বহু দূরে থেকে ৩০.৮৩ গড়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করেন। ৩৭০ রান তুলেন। ২৪ মে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ১২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩২.৯২ গড়ে মাত্র ১৪ উইকেট দখল করেছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অনেকের ন্যায় তাঁরও খেলোয়াড়ী জীবন বাঁধাগ্রস্ত হয়। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে জি. ও. অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৯৪৮ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ইংল্যান্ড দলের সফরের পূর্ব পর্যন্ত খেলার সুযোগ পাননি। এ পর্যায়ে ব্রিজটাউন, পোর্ট অব স্পেন ও জর্জটাউন টেস্টে অংশ নেন। তন্মধ্যে, জানুয়ারি, ১৯৪৮ সালে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ছয় বল থেকে ৬, ৬, ৪, ৪, ৪, ৪ রান তুলেন। প্রথম চারটি জিম লেকারের ও পরবর্তী দুইটি জ্যাক ইকিনের বল থেকে রান আদায় করে নিয়েছিলেন। আধা ঘণ্টায় ৫০ রানের কোটা স্পর্শ করেন ও ৬৩ মিনিটে ৭২ রান তুলে বিদেয় নেন। পরবর্তীতে টেস্টে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহে পরিণত হয়। এ টেস্টের পূর্বে ফ্রাঙ্ক ওরেল খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে খেলতে না পারলে তিনি খেলার সুযোগ পান। এছাড়াও, টেস্টগুলো থেকে ২৬.৭৭ গড়ে ৯ উইকেট দখল করেছেন। ব্রিজটাউন টেস্টে ৩/৫১ লাভের পর পোর্ট অব স্পেনের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩/৬৪ পান।

১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৩১ ও ৩/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ৩ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২১ ও ২/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, ১৯৫০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ২৯.১৯ গড়ে ১১৬ উইকেট ও ২৬.৮৯ গড়ে ১৪৭৯ রান সংগ্রহ করেছেন। দুইটি শতকের একটি ছিল ১৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস। ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ সালে ব্রিজটাউনে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে অষ্টম উইকেটে ম্যানি মার্টিনডেলের (১৩৪) সাথে ২৫৫ রানের জুটি গড়েন। অদ্যাবধি এটি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে বোলিং উদ্বোধনে নেমে তিনটি করে উইকেট পেয়েছিলেন। কেবলমাত্র একবার পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৫/৭৩ লাভ করেন। এছাড়াও, ১৮টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলেও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। বার্বাডোসের পক্ষে ফুটবল খেলেছিলেন। দ্বীপ সরকারের অধীনে প্রধান ক্রীড়া কর্মকর্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৩ এপ্রিল, ১৯৯৭ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে ৮৩ বছর ৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।