| | |

জো রুট

৩০ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের শেফিল্ডে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিং করেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

হেলেন ও ম্যাট রুট দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান তিনি। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে শেফিল্ড কলেজিয়েট সিসি’র পক্ষে খেলেছেন। এ সময়ে তাঁর পিতাও খেলতেন। প্রায়শঃই ইয়র্কশায়ারের দুই প্রধান ব্যাটসম্যান – জিওফ্রে বয়কট ও মাইকেল ভনের সাথে তাঁকে তুলনা করা হয়ে থাকে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে দারুণ খেলার পর নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। ২০০৯ সালে ইয়র্কশায়ারের প্রথম একাদশে খেলে সহস্র রানের কাছাকাছি সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ইংল্যান্ড লায়ন্সের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ২০১০ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে লায়ন্স দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। একই বছর আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় খেলার জন্যে মনোনীত হন।

২০১০ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্স, সিডনি থান্ডার, ট্রেন্ট রকেটস ও ইয়র্কশায়ার একাডেমির পক্ষে খেলেছেন। ১০ মে, ২০১০ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত ইয়র্কশায়ার বনাম লাফবোরা এমসিসিইউর মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ব্যাটিং কোচ গ্রাহাম থর্পের সহযোগিতায় ২০১০ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৯৬৪ রান তুলেন। হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে তৎকালীন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২২২ রান তুলেন।

২০১২ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ভারত সফর করেন। ২১ বছর বয়সে ১৩ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বেশ ভালো খেলেন। ৭৯ রান তুলে টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত করতে ভূমিকা রাখলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২০* রান সংগ্রহসহ ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এটি ২৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড দলের সিরিজ জয় করে।

একই সফরের ২২ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে ওয়াংখেড়েতে টি২০আই এবং ১১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে রাজকোটে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৬ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১৩ সালে নিজ দেশে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৪ মে, ২০১৩ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৩ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১০৪ ও ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্রায়েম সোয়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ২৪৭ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এ সিরিজে ২৪৩ রান সংগ্রহ করে টিম সাউদি’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

একই বছর নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ জুলাই, ২০১৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৬ ও ১৮০ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

২০১৪ সালে নিজ দেশে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুন, ২০১৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২০০ রান সংগ্রহের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৫ সালের শুরুতেই খেলায় চমৎকার ছন্দ ধরে রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে ১৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের পূর্ণাঙ্গকালীন অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। তিনি চার বছর ধরে অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা অ্যালাস্টেয়ার কুকের অবসর গ্রহণজনিত কারণে স্থলাভিষিক্ত হন। দলকে প্রথম খেলায় নেতৃত্ব দিয়ে শতরানের ইনিংস খেলেন। এরফলে, ষষ্ঠ ইংরেজ অধিনায়ক হিসেবে প্রথম খেলায় অধিনায়ক হিসেবে এ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।

ঐ বছর নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুলাই, ২০১৫ তারিখে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১ম ইনভেস্টেক টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ১৩৪ ও ৬০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় সফরকারীরা ১৬৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৭ সালে নিজ দেশে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৯০ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মঈন আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২১১ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৪ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫২ ও ৪৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডুয়ান অলিভিয়ারের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মঈন আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭৭ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জয়ী হয়।

২০১৮-১৯ মৌসুমে অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে পল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ১৪ ও ১২৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ১/২৬ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর বদৌলতে সফরকারীরা ৫৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৯-২০ মৌসুমে ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২২৬ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই মৌসুমে ইংরেজ দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে কিউ ডি কককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৯। খেলায় তিনি ০/২৫ ও ৪/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অলি পোপের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৩ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৮ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৭৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫৯ ও ৫৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মার্ক উডের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ১৯১ রানে জয়লাভ করলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২০-২১ মৌসুমে ইংরেজ দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৪ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেয়েছিলেন। তাঁর অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২২ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৮৬ ও ১১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ২/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। এছাড়াও, এ সিরিজে ৪২৬ রান সংগ্রহসহ দুই উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২২ সালে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুন, ২০২২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১১ ও ১১৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১০ জুন, ২০২২ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজ অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৭৬ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ট্রেন্ট বোল্টের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জনি বেয়ারস্টো’র অসাধারণ মারকুটে শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০২৪ সালে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। জিমি অ্যান্ডারসনের বিদায়ী টেস্টে ৬৮ রান সংগ্রহ করেন। তবে, অভিষেকধারী গাস অ্যাটকিনসনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা খুব সহজে তিনদিনেই ইনিংস ও ১১৪ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে।

একই বছর নিজ দেশে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ২৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ১৪৩ ও ১০৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর জোড়া শতক সত্ত্বেও গাস অ্যাটকিনসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯০ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, পথুম নিসাঙ্কা’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলেও তাঁর দল ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এ সিরিজে ৩৭৫ রান সংগ্রহসহ এক উইকেট দখল করে কামিন্ডু মেন্ডিসের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২৫ সালে নিজ দেশে ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ মে, ২০২৫ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ২৮ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শোয়েব বশীরের অনবদ্য কৃতিত্বে স্বাগতিকরা চারদিনের টেস্টটি তিনদিনেই করায়ত্ত্ব করে নেয়। ইনিংস ও ৪৫ রানে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড দল। এরফলে, জিম্বাবুয়ে দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের চারটিতে পরাজিত হয় ও একটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জোশ টংয়ের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

২০১৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। দীর্ঘদিনের মেয়েবান্ধবী ক্যারি কটারেলের সাথে মার্চ, ২০১৬ সালে তাঁর বাগদান পর্ব সম্পন্ন হয়। অতঃপর, ২০১৮ সালে তাঁরা বৈবাহিকবন্ধনে আবদ্ধ হন।

Similar Posts

  • | | | |

    কার্ল হুপার

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়েও সবিশেষ দক্ষতার ছাঁপ প্রকাশ করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যাট ও বল – উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর মাঝে আলস্যতা বিরাজমান ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানা এবং ইংরেজ কাউন্টি…

  • | | |

    ডারমট রিভ

    ২ আগস্ট, ১৯৬৩ তারিখে হংকংয়ের কাউলুন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালনে সচেষ্ট থাকতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেট, সাসেক্স ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হংকংয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৩ থেকে…

  • |

    আল্ফ হল

    ২৩ জানুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে ইংল্যান্ডের বোল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯২০-২১ মৌসুম থেকে ১৯৩০-৩১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল এবং ইংরেজ কাউন্টি…

  • |

    ব্যাসিল গ্রিভ

    ২৮ মে, ১৮৬৪ তারিখে মিডলসেক্সের কিলবার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হ্যারো স্কুলে অধ্যয়ন করেছিলেন। ক্লাব পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পেশায় পানশালা পরিচালনা করতেন। হ্যারোর পক্ষে বোলার হিসেবে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।…

  • | |

    ক্রিস হ্যারিস

    ২০ নভেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘লাগস’ ডাকনামে পরিচিতি পান। কিউই তারকা ব্যাটসম্যানের খ্যাতি অর্জন করেন। প্রথম নিউজিল্যান্ডীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওডিআইয়ে দুই সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ও প্রথম…

  • |

    তাপস বৈশ্য

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৮২ তারিখে সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ও পেশীবহুল শারীরিক গঠন ছিল তাঁর। শশব্যস্ততা সহকারে সোজাসুজি বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। চলমান গতিতে বোলিংয়ে সম্ভাব্য…