ফাফ ডু প্লিসি

১৩ জুলাই, ১৯৮৪ তারিখে প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ফাফ ডু প্লিসি প্রিটোরিয়াভিত্তিক অ্যাফিস বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে টাইটান্স, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট, ল্যাঙ্কাশায়ার, নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, এডমন্টন রয়্যালস, জাফনা কিংস, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভাল, নর্দার্ন সুপারচার্জার্স, পার্ল রক্স, পেশাওয়ার জালমি, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স, রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস, টাইটান্স, বিশ্ব একাদশ ও সেন্ট লুসিয়া কিংসের পক্ষে খেলেছেন। ৫ মার্চ, ২০০৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে গটেং বনাম নর্দার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

৫ মার্চ, ২০০৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে গটেং বনাম নর্দার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় পাঁচ শতাধিক রান তুলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন ও জাতীয় দলের খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ৬৯ টেস্ট, ১৪৩ ওডিআই ও ৫০টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণের পর থেকে ক্রিকেট বিশ্বে নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে থাকেন। দলের মাঝারিসারিতে ভিত গড়তে এগিয়ে আসেন। ১৮ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ঐ খেলায় চমৎকার অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, ২০১১ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। সাত খেলায় অংশ নেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন।

এক বছর পর ২০১২-১৩ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৯ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২২ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১১০ রানের ইনিংস খেলে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। বল হাতে নিয়ে ০/৩৪ ও ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। ঐ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ভার্নন ফিল্যান্ডারের বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৭ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১১০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৯৩ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

আগস্ট, ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান। এর অল্প কিছুদিন পর আরও দুইটি শতক হাঁকান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২৬ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২১ রান তুলেন। এরপর, মাত্র চার রানের জন্যে যে-কোন বহু দল নিয়ে গড়া ওডিআইয়ে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে চারটি শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হন। ঐ সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় ৯৬ রান তুলে মিচেল জনসনের শিকারে পরিণত হন।

২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ের গমন করেন। ৯ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯৮ ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। অভিষেক ঘটা ডেন পাইতের বোলিং কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পায়।

ভারতে অনুষ্ঠিত ২০১৬ সালের আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২০১৭ সালে বিশ্ব একাদশ বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার তিনটি টি২০ খেলা নিয়ে গড়া সিরিজে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

এবি ডি ভিলিয়ার্সের অবসর গ্রহণের পর অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। বৈশ্বিক পর্যায়ে দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে তিন স্তরের ক্রিকেট শতক হাঁকান। এছাড়াও, প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে তিন স্তরের ক্রিকেটে শতরান করার গৌরব অর্জন করেন।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৩ ও ৪৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। লুঙ্গি এনগিডি’র অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ১৩৫ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে দূর্দান্ত খেলেছিলেন। ১০৩ ও ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ খেলেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১৯৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসামান্য ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪৫ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই মৌসুমে কুইন্টন ডি ককের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। হাসান আলী’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯৫ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যানুয়েল প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার হিসেবে মনোনীত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ইমারি ভিসার নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির এক কন্যা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকান রাগবি খেলোয়াড় ফ্রাঙ্কোস ডু প্লিসিসের সন্তান তিনি। তাঁর ভগ্নীকে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার হরদাস বিলজোয়েন বিয়ে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *