ক্যামেরন গ্রীন

৩ জুন, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক স্কচ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। খেলার ধরন অনেকাংশেই অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের অনুরূপ ও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারণা সেরা অস্ট্রেলীয় রিকি পন্টিংয়ের ন্যায় ব্যাটিং প্রতিভা তাঁর মাঝে বহমান। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু থেকেই নিজেকে মেলে ধরে চলেছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, পার্থ স্কর্চার্স ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন।

১৭ বছর বয়সে ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত তাসমানিয়া বনাম ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ৫/২৪ লাভ করেছিলেন। প্রথম পাঁচটি খেলা থেকে ১৩.৭০ গড়ে ২২ উইকেট পেয়েছিলেন। নভেম্বর, ২০১৯ সালে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে অপূর্ব খেলেন। আট নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত ৮৭ ও নয় নম্বর অবস্থানে নেমে অপরাজিত ১২১ রানের ইনিংস খেলেন। এরফলে, তাঁকে উপরের দিকে ব্যাটিংয়ের জন্যে নিয়ে যাওয়া হয় ও শীর্ষসারিতে সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন।

পরের মৌসুমে দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করেন। ২০২০ সালের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওডিআই দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ২০২১ সালে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৫১ রান তুলেন। সচরাচর, ছয় নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের গতিবেগে নিয়মিতভাবে বোলিং করেন।

২০২০ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করে আসছেন। ২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

একই সফরের ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক টিম পেইনের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীতে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দিবা-রাত্রির দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ৩৩* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২৪ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৭৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই সফরের ৫ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ৭৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৪ ও ১/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। উসমান খাজা’র জোড়া শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

৫ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে মারনাস লাবুশেন ও বেন ডোয়ারশুইসের সাথে তাঁর একযোগে টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটে। টি২০আই অভিষেকে প্রথম দুই পাকিস্তানী ক্রিকেটারের উইকেট পান।

২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ নভেম্বর, ২০২২ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৩৫ ও ০/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে হয়নি। মারনাস লাবুশেনের জোড়া শতকে সফরকারীরা ১৬৪ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে কে রাবাদাকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/২১। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঘটনাবহুল এ টেস্টের ঐ ইনিংসে ব্যক্তিগত ৬ ও দলীয় সংগ্রহ ৩৬৩/৩ থাকাকালে আঘাতের কবলে পড়েন। এরপর, দলের সংগ্রহ ৪৪০/৭ থাকাকালীন মাঠে ফিরে আসেন। ৮৪.৪ ওভার পর আবারও মাঠ ত্যাগ করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৫১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮২ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

৯ মার্চ, ২০২৩ তারিখে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে অপূর্ব খেলেন। প্রথম ইনিংসে ১৭০ বল মোকাবেলা করে ১১৪ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস উপহার দেন। এটিই তাঁর প্রথম শতরানের ইনিংস ছিল।

২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে অ্যাডিলেডের কারেন রোল্টন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ০/১২ ও ১/৯ লাভ করেন। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই মৌসুমে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৮ মার্চ, ২০২৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১/২১ ও ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যালেক্স কেরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৫ সালে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অংশ নেন। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ৩ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৫৯ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১২ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত দিবা-রাত্রির তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৬ ও ৪২ রান সংগ্রহ করেন। তবে, মিচেল স্টার্কের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭৬ রানে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৭ ও ২২* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮৫ ও ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৬ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ১৩ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ডারউইনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ১০৪ রান করে সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। হাসান মাহমুদের স্মরণীয় বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায় ও টেস্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *