৩০ মার্চ, ১৯২৭ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ম্যাককে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘দ্য ভয়েস’ কিংবা ‘গ্রিজ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে ব্রিসবেনে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের উভয় ইনিংসে ৮ ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তাঁর এ রেকর্ডটি ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত টিকেছিল। ডন টলনের অবসর গ্রহণের পর কুইন্সল্যান্ডের প্রধান উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান।

১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৫১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে নিজ দেশে ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে অংশ নেন। লিন্ডসে ক্লাইন, ইয়ান মেকিফবব সিম্পসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক ইনিংসে ৬ ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২১ রান অতিক্রম করেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে এ সাফল্যকে ছাঁপিয়ে যান। ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ৩৫* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পূর্বের দুই টেস্টে জয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে লাহোরে স্বাগতিক পাকিস্তান ও ১৯৬১ সালে লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক টেস্টে আট ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। জিল ল্যাংলি’র পর কেবলমাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এ কীর্তিগাঁথায় নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনবার সিরিজে ২০-এর অধিক ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে ইংল্যান্ড ও ১৯৬০-৬১ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ১৯৬১ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে এ সফলতা পান।

১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নামার সুযোগ না পেলেও উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ‘বব কাউপারের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৬৫-৫৫ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজের পর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেন। অবসর গ্রহণকালীন টেস্টে ১৮৭টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। কেবলমাত্র গডফ্রে ইভান্সই তাঁর তুলনায় এগিয়েছিলেন।

দূর্বল হৃৎপিণ্ডের কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ অগ্রাহ্য করেন। ৩৯ বছর বয়সে এসেও খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর রথম্যানের পল মল (অস্ট্রেলিয়া) লিমিটেডে কাজ করেন। শেষ জীবনে জুয়া খেলায় জড়িয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ১৯৬৭ সালে কুইন্সল্যান্ডের দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তবে, পরের বছর বুকের ব্যথার কারণে ব্রিসবেন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

স্বীয় আত্মজীবনী ‘মাই কান্ট্রিজ কিপার’ প্রকাশ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এক কন্যা ও পালকপুত্র ছিল। ৯ নভেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের উইকহাম টারেস এলাকার হাসপাতালে হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪১ বছর ২২৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁর দেহভষ্ম গাব্বায় ছিটিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে এসসিজি’র শৌচাগারের নাম রাখা হয়। ২৪ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে মেলবোর্নে নৈশকালীন অ্যালান বর্ডার পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে জেফ থমসনের সাথে তাঁকে মরণোত্তর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। স্যার ডন ব্র্যাডম্যান তাঁকে সর্বকালের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট