১ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে কেন্টের মার্গারেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটিয়ে থাকেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী অলি রবসন ‘অলি রব’, ‘অল’ কিংবা ‘রব্বো’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ফ্রেডি ফ্লিনটফকে পছন্দের তালিকার শীর্ষস্থানে রেখেছেন। ক্যান্টারবারিভিত্তিক কিংস স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এর ক্লাব ক্রিকেটে স্যান্ডউইচের পক্ষে খেলেন। ন্যাশনাল কাউন্টি অনূর্ধ্ব-১৭ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন। ২০১৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার, সাসেক্স ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ম্যানচেস্টার অরিজিন্যালসের পক্ষে খেলেছেন।
২০১৩ সালে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। ঐ মৌসুম শেষে দ্বিতীয় একাদশ ক্রিকেটে ৫৯ উইকেট ও ১২৮২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শেষেরদিকের ওভারগুলোয় ইয়র্কার প্রয়োগে দারুণ ভূমিকা পালনে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। ২৬ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সাসেক্স বনাম ডারহামের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। সাসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৭/৫২ লাভ করেন। নিখুঁততা, সিম ঘুরানোয় দক্ষতা ও বাউন্স আনয়ণে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে নিয়মিতভাবে উইকেট লাভ করছেন।
দীর্ঘকাল ইংল্যান্ডের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালনকারী পল ফারব্রেসের সৎপুত্র তিনি। ২০১৩ মৌসুম শুরুর পূর্বে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে সাদা-বলের ক্রিকেটে বোলার হিসেবে নিজেকে পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট হন।
২০২১ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ঐ বছর নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হন। ২ জুন, ২০২১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেমস ব্রেসি ও ডেভন কনওয়ের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪/৭৫ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩/২৬ লাভ করেন। এ সাফল্যের কল্যাণে আইসিসি টেস্ট বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে ৬৯তম অবস্থানে চলে আসেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৪২ রান তুলে আইসিসি টেস্ট ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ৯১তম অবস্থানে নিয়ে যান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। তবে, এরপর থেকে দলের বাইরে ছিটকে পড়েন। সামাজিক মাধ্যমের টুইটার বার্তায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন।
২০২১-২২ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৮ ও ১/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ট্রাভিস হেডের অসাধারণ শতকে ভর করে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দিবা-রাত্রির দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪৫ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে নাথান লায়নের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৭৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০২২-২৩ মৌসুমে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫* ও ৩৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ৪/৫৪ ও ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৬৭ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২৬ সালে নিজ দেশে সালমান আগা’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১৫ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডন লরেন্সের অল-রাউন্ড কৃতিত্বে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ৫৮ রান সংগ্রহসহ ২১ উইকেট দখল করে মোহাম্মদ আব্বাসের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
প্রিয় খাদ্য হিসেবে টুনা জ্যাকেট পটেটো রেখেছেন। এমিনেম তাঁর প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। ‘আই এম লিজেন্ড’ তাঁর প্রিয় চলচ্চিত্র।