| |

গ্রাহাম থর্প

১ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে সারের ফার্নহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ভ্রাতৃত্রয়ের সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁর দাঁড়ানোর ভঙ্গীমায় ভ্রাতাদের তাঁকে বিদেয় করতে সবিশেষ বেগ পেতে হতো। এছাড়াও, লেগ-সাইডের স্বল্প দূরত্বের সীমানা বল ফেলে পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করতেন। শৈশবকালেই তাঁর মাঝে ক্রিকেটীয় প্রতিভার ছাঁপ লক্ষ্য করা যায়।

‘স্টাম্পি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৮ থেকে ২০০৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। সারের তারকা ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। ওভালভিত্তিক কাউন্টি ক্লাবটির ‘প্রিয় পুত্র’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ড্রাইভে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন ও কভার অঞ্চলে দণ্ডায়মান ফিল্ডারদের ব্যতিব্যস্ত রাখতেন। পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে সুনাম কুড়ান। মাঠে তাঁর উপস্থিতি বেশ প্রাণসঞ্চার করতো ও যে-কোন অবস্থানে ভালো করতেন।

১৯৮৮ সাল থেকে সারের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। ১০ বছর ইংল্যান্ড ও ‘এ’ দলের সাথে ক্রমাগত বিদেশ সফরের সাথে যুক্ত ছিলেন।

১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১০০ টেস্ট ও ৮২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। প্রায় এক দশক ইংল্যান্ডের মাঝারিসারিতে প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মে, ১৯৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। একই সফরের ১ জুলাই, ১৯৯৩ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। মার্ক ইলট, মার্টিন ম্যাককগ ও মার্ক ল্যাথওয়েলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ১১৪* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তাঁর অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

১৯৯৫ সালে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২০ ও ৬১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইয়ান বিশপের অপূর্ব বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫২ ও ৪২ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে কার্টলি অ্যামব্রোসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, অভিষেকধারী ডমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণ করে।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলার একমাত্র ইনিংসে তিনি ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৬ সালে নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৫৪ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মুশতাক আহমেদের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১৯ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৭ সালে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২১ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ৬২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ফিল টাফনেলের চমৎকার বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১৯ রানে জয়লাভ করলেও স্বাগতিকরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ৪৫৩ রান সংগ্রহ করে গ্লেন ম্যাকগ্রা’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। তবে, প্রথম দিন বল বিপজ্জ্বনকভাবে লাফিয়ে উঠে ব্যাটসম্যানদেরকে আঘাতের কারণে ১০.১ ওভার শেষে ৫৬ মিনিট পর দলের সংগ্রহ ১৭/৩ থাকাকালে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। খেলায় তিনি শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১২ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১০৩ ও ৩৬* রান সংগ্রহ করেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের প্রথম দিনে পিঠের আঘাতের কবলে পড়ে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে, মার্ক রামপ্রকাশের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯৯ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৫ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ২৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

নভেম্বর, ২০০০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে শতক হাঁকালেও এ ইনিংসে মাত্র একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন। ২০০০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিজয়ের পর তিনি তাঁর সময়কালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন।

ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। টেস্টে ১৬টি শতরানের ইনিংসসহ ৪৪.৬৬ গড়ে ৬৭৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০০১-০২ মৌসুমে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৩ মার্চ, ২০০২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ২০০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানে পরিণত হয়। দ্বি-শতক এ ইনিংসটি খেলতে ২৩১ বল মোকাবেলা করেছিলেন। তন্মধ্যে, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের সাথে ৫১ ওভারে ২৮১ রানের জুটি গড়েছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯৮ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৩ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মার্কাস ট্রেস্কোথিকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়।

২০০৩-০৪ মৌসুমে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ২৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অপরাজিত চতুর্শতকের কল্যাণে খ্যাতি পাওয়া ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০০৪-০৫ মৌসুমে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৬৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১ ও ১১৮* রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যসহ মন্দালোকের কারণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।

এরপর, ২ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ১৯৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষমতা দেখায়।

২০০৫ সালে নিজ দেশে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জুন, ২০০৫ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৬* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ম্যাথু হগার্ডের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর টেস্টে সর্বশেষ অংশগ্রহণ ছিল।

আগস্ট, ২০০৫ সালে ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানান। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। দুই মৌসুম অস্ট্রেলিয়ায় নিউ সাউথ ওয়েলসে কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৭ জুন, ২০০৬ তারিখে এমবিই পদবীতে ভূষিত হন।

অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইংল্যান্ডের ৪-০ ব্যবধানে পরাজয়ের পর কোচ ক্রিস সিলভারউডের সাথে সহকারী কোচের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যহতি দেয়া হয়। সিরিজ পরাজয়ের পর তাঁকে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়দের সাথে একত্রে পানীয় গ্রহণের চিত্র প্রকাশিত হলে বিতর্কের মধ্যে পড়েন। এরপর, ২৯ মার্চ, ২০২২ তারিখে আফগানিস্তান দলের প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন ও ল্যান্স ক্লুজনারের স্থলাভিষিক্ত হন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে প্রেরণ করার পর ১০ মে, ২০২২ তারিখে পরিবার থেকে জানানো হয় যে, আরোগ্য লাভের বিষয়টি অস্পষ্ট।

১৯৯৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষষেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ড সফরে আসা ভারতের সফরকালীন বিবিসি রেডিও’র টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তবে, বিকৃত ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি লক্ষ্য করে তাঁকে এ দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। আমান্ডা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ৪ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে ৫৫ বছর ৩ দিন বয়সে ইশারে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট