| |

অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড

৫ জুন, ১৯৮১ তারিখে ভিক্টোরিয়ার উডঙ্গা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘রনি’ ডাকনামে ভূষিত অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৪ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, সিডনি থান্ডার, মেলবোর্ন রেনেগাডেস ও ইউভা নেক্সটের পক্ষে খেলেছেন। লোয়ারহাউজ ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ২০০৫ সময়কালে খেলেছিলেন।

২০০১-০২ মৌসুমে অভিষেকের পর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণের সফলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। অস্ট্রেলীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে খেলেন। কিন্তু, আঙ্গুলের আঘাতের কবলে পড়েন। ২০০৪-০৫ ও ২০০৫-০৬ মৌসুমে খুব বেশী খেলায় অংশ নিতে পারেননি। পরের মৌসুমে আঘাতের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে খেলার জগতে ফিরে আসেন ও বেশ ভালো খেলেন। ঘরোয়া আসরের দূর্দান্ত খেলার কারণে কয়েক বছরের মধ্যে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান।

২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ডগ বলিঙ্গারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪১ ও ২/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, পিটার সিডলের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৩ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

এছাড়াও, একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিদেশ সফরে মোকাবেলা করেন। ব্যাট হাতে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। কেবলমাত্র ৬৮ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছিলেন। কিন্তু, বল হাতে নিয়ে বেশ ভালো করেছিলেন। তবে, দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে আর দলে রাখেননি।

একই মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরতি সফরে যান। ১৯ মার্চ, ২০০৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৬৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, পল হ্যারিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২০ রানে জয়লাভ করলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া আসরে ঠিকই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চলছিলেন। অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কারণে বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দলগুলো তাঁর দিকে আকৃষ্ট হয়। ২০১১ সাল থেকে বিগ ব্যাশ লীগে মেলবোর্ন রেনেগাডেসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এছাড়াও, আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেন।

৩৩ বছর বয়সে ২০১৪ সালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলকে পরিচালনা করে শেফিল্ড শীল্ড ও ওয়ান ডে প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ের পাশাপাশি মেলবোর্ন রেনেগাডেসের বিগ ব্যাশ লীগের অষ্টম আসরের শিরোপা বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। এরপর, ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের সহকারী কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। অস্ট্রেলিয়া দলের প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন। চার বছরের মেয়াদের চুক্তিতে পূর্ণাঙ্গকালীন কোচ হিসেবে তিনি অব্যহতি নেয়া জাস্টিন ল্যাঙ্গারের স্থলাভিষিক্ত হন। তবে, ১ জুন, ২০২২ তারিখে কোভিড-১৯ অতিমারীর কারণে শ্রীলঙ্কা গমনের শুরুতে যেতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে মাইকেল ডি ভেনুটো চলতি দায়িত্ব পালন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট