|

ডগ বলিঙ্গার

২৪ জুলাই, ১৯৮১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বলখাম হিলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

‘ঈগল’ ডাকনামে ভূষিত ডগ বলিঙ্গার ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯২ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। দ্রুততর ভঙ্গীমায় বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগে বোলিং করে থাকেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা চমৎকারভাবে শুরু করেন। এরপর থেকে অজি পেস আক্রমণে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হন। মাঠে দলীয় সঙ্গীদের উজ্জ্বীবনীশক্তি প্রদানসহ সাজঘরে কৌতুকপ্রবণে মত্ত থাকেন।

২০০২-০৩ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, হোবার্ট হারিকেন্স, সিডনি সিক্সার্স ও সিডনি থান্ডারের পক্ষে খেলেছেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে ১৫ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ঘরোয়া আসরের সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে ২৮.৩২ গড়ে ২৭ উইকেট দখল করেছিলেন। এরফলে, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে ঘিরে ৩০-সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় তাঁকে রাখা হয়। তবে, চূড়ান্ত দলে তাঁর ঠাঁই হয়নি। দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকার পর অবশেষে তাঁকে জাতীয় দলে যুক্ত করা হয়।

২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্ট, ৩৯টি ওডিআই ও নয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দুই উইকেট পেয়েছিলেন। খেলায় তিনি ০/৭৮ ও ২/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। পিটার সিডলের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৩ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই বছরের ২৪ এপ্রিল, ২০০৯ তারিখে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। এই সিরিজে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট পান। ৫/৩৫ লাভ করেন ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। তবে, কিছু সময় উদীয়মান তরুণদের কাছ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০১০ সালের দ্বিতীয়ার্ধ্বে টেস্ট ও ওডিআইয়ে তাঁর গড় অর্ধেকে পরিণত হয়। এছাড়াও, ক্ষুদ্রতর সংস্করণের খেলায় ব্যাটিং উপযোগী পিচে ওভারপ্রতি পাঁচের কম রান খরচ করেন।

২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৭০ ও ৩/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় ক্রিস গেইলের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী সত্ত্বেও সফরকারীরা ৩৫ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে অন্যতম সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৯ মার্চ, ২০১০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক কিউই দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ৫/৭০। খেলায় তিনি ৫/২৮ ও ২/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০* ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কেভিন পিটারসনের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৯-১০ মৌসুমের গ্রীষ্মে অন্যতম সেরা সময় অতিবাহিত করেন। নিজ দেশে এবং নিউজিল্যান্ড সফরে আট, সাত ও ছয় উইকেট পান। ঐ মৌসুমে মাত্র সাত টেস্ট থেকে ৩৭ উইকেট দখল করেছিলেন। এরফলে, ২০১০ সালে আইসিসি’র বর্ষসেরা টেস্ট দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। এছাড়াও, ঐ বছরের সেরা ওডিআই দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ওডিআইয়ে ২৩.৯০ গড়ে ৬২ উইকেট পেয়েছিলেন।

এছাড়াও, ২০১৪ সালের আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেছিলেন। টেস্টে ২৫.৯২ গড়ে ৫০ উইকেট দখল করেছেন।

বিবিএলের সপ্তম আসরে সিডনি সিক্সার্সে নিজস্ব চতুর্থ মৌসুম খেলেন। সমর্থক ও দলীয় সঙ্গীদের প্রিয়পাত্রে পরিণত হন। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলানোয় দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। ২০১০ সালে আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের প্রথম শিরোপা বিজয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে শেফিল্ড শীল্ডের খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

৩৬ বছর বয়সে এসে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। টিগান সাদারল্যান্ড নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির স্কাই ও লিয়াম নামীয় সন্তান রয়েছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট