২৫ জানুয়ারি, ১৯১৫ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার কোরেন্টাইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পোর্ট মোর‌্যান্ট ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৩-৪৪ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ গায়ানার পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে জি. ও. অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলেন। জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ৪/৬৮ ও ৫/৩৬ পান। এরফলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন।

১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ১৬.১৬ গড়ে ১৮ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে জি. ও. অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। ল্যান্স পিয়েরে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, প্রথম বার্বাসীয় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি দলের কোন ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও বল হাতে নিয়ে ২/৬ ও ১/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১৯৪৮ সালে ভারত সফরে যান। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টে দূর্ভাগ্যজনক ঘটনার সাথে নিজেকে জড়ান। ২৩জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে রান-আউটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে চার বল ও দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম বল মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ রান সংগ্রহের চেষ্টাকালে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়েছিল। এ পর্যায়ে উইকেটে থিতু অবস্থায় থাকা জেরি গোমেজ ছিলেন। তবে, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে নিজস্ব সেরা বোলিং করেছিলেন। ৫/৩৪ লাভ করেছিলেন। নাটকীয়ভাবে ১ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১২ নভেম্বর, ১৯৬০ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার নিউ আমস্টারডাম এলাকার হাসপাতালে মাত্র ৪৫ বছর ২৯২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর সম্মানার্থে বারবাইস ক্রিকেট বোর্ড ২০১০ সালে জন ট্রিম মেমোরিয়াল ট্রফির প্রবর্তন করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট