২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০ তারিখে বে অব প্লেন্টির তৌরাঙ্গায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান তিনি। নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার ব্রেন্ডন ব্রেসওয়েল ও জন ব্রেসওয়েল সম্পর্কে যথাক্রমে তাঁর পুত্র ও ভ্রাতুষ্পুত্র হন। শৈশবেই তাঁর ক্রিকেট প্রতিভা বিকশিত হয়। ২০১০ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য হন।
২০০৮ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে নেপিয়ারে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস বনাম অকল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটলে জাতীয় দলের সদস্যরূপে তাঁকে নিউজিল্যান্ড দলে রাখা হয়। অক্টোবর, ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে যান।
২০১১ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুটা তাঁর আনন্দোচ্ছাসে ভরপুর ছিল। অন্যান্য বোলার আঘাতের কবলে পড়লে তাঁর টেস্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। ২০১১-১২ মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেন। ডিন ব্রাউনলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবারের টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এরফলে, নিউজিল্যান্ডের সপ্তম বোলার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। খেলায় তিনি ১/৫১ ও ৫/৮৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩৪ রানে পরাজয়বরণ করে। এর পূর্বে ২০ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে হারারেতে একই দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেছিলেন।
পেস ও সুইংয়ের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে একই ধারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও অব্যাহত রাখেন। একই মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১২ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ে ভূমিকা রাখেন। ৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে নাথান লায়নকে বিদেয় করে সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর দল নাটকীয়ভাবে সাত রানের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে পরাভূত করেছিল। এরফলে, ২৬ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিউজিল্যান্ড দল জয়লাভে সক্ষম হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬/৪০ নিয়ে তিনি বিরাট ভূমিকা পালন করেন। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ৫/৮৬। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সেরা বোলিংয়ে পরিণত হয়। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ৩/২০ লাভ করেন। পাশাপাশি, খেলায় তিনি ১২ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ শতক সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৭ রানে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ মার্চ, ২০১২ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫২ ও ৩/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর বদান্যতায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১২ সালে প্রথমবারের মতো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৫ জুন, ২০১২ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ৩৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৯৬ ও ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সুনীল নারাইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১২-১৩ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ভার্নন ফিল্যান্ডারের বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৪ মে, ২০১৩ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ১৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে গ্রায়েম সোয়ানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ১/৮৩ ও ০/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্রায়েম সোয়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ২৪৭ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৯ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে রবিউল ইসলামের তৃতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩/৯৬ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সোহাগ গাজী’র অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
উইকেট লাভের পাশাপাশি টেস্ট ও ওডিআইয়েও রানের ফল্গুধারা অব্যাহত রাখেন। এরফলে, তাঁকে ভবিষ্যতের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে চিত্রিত করা হতে থাকে। মাঠে বিভিন্ন ঘটনায় নিজেকে জড়ান। ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালে খেলার পূর্বদিন জেসি রাইডার সহযোগে মাতাল অবস্থায় গভীর রাত্রে ফিরলে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হন। এরফলে, তাঁরা উভয়েই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। ভারত সফরে নিজস্ব শেষ খেলায় অংশ নিলেও তা মোটেই চিত্তাকর্ষক ছিল না।
৭ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলে যুক্ত করা হয়। ২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৭ মার্চ, ২০২৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে হয়নি। তবে, বল হাতে নিয়ে ১/১৯ ও ১/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অবশ্য, হেনরি নিকোলসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
