৭  আগস্ট, ১৯৭১ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের নিউক্যাসল-আন্ডার-লাইম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘কর্কি’ ডাকনামে ভূষিত ডমিনিক কর্ক ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। স্টোক-অন-ট্রেন্টভিত্তিক সেন্ট যোসেফস কলেজে অধ্যয়ন করেন। এরপর, নিউক্যাসল কলেজে পড়াশুনো করেন। ১৯৯০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, হ্যাম্পশায়ার ও ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৩৭ টেস্ট ও ৩২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৪ আগস্ট, ১৯৯২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

১৯৯৫ সালে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টেই পাঁচ-উইকেট নিয়ে প্রথমবারের মতো লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে চিত্রিত করেন। খেলায় তিনি ১/৭২ ও ৭/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩০ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণ করে। অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৯৫ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ৪/৮৬ ও ৪/১১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঘটনাবহুল এ টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম ওভারে হ্যাট্রিক সম্পন্ন করেন। এ হ্যাট্রিকটি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের ২২তম ছিল। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৬* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে সমতা চলে আসে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলার একমাত্র ইনিংসে তিনি ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৬ সালে অভিষেক টেস্টের পুণরাবৃত্তি করেন। সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একই মাঠে পাঁচ-উইকেট লাভ করে দ্বিতীয়বারের মতো লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। প্রথম দিন বৃষ্টির কারণে দুপুর ১:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত খেলা হয়নি। অতঃপর, অ্যালেক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে দল টসে জয় পেয়ে ফিল্ডিংয়ে নামলে শুরুতেই শীর্ষসারিতে ভাঙন ধরান। আগ্রাসী আউট-সুইং করে সফরকারীদের সংগ্রহকে ৪৬/৪-এ নিয়ে যান। শন পোলকের উইকেট নিয়ে অনার্স বোর্ডসে জায়গা করে নেন। ঐ ইনিংসে ৬/১১৯ করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা দল হান্সি ক্রোনিয়েজন্টি রোডসের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৩৬০ রান সংগ্রহ করে। কিন্তু, স্বাগতিকদের ব্যাটিং দূর্বলতায় ১১০ ও ২৬৪ রানে গুটিয়ে গেলে প্রতিপক্ষ ১০ উইকেটে জয় পায়।

১৯৯৬ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬১ ও ২/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। নাসের হুসাইনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৭১ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মুশতাক আহমেদের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, ৩/৯৬ ও ১/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৮ সালে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৩ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত ৪র্থ ওভারটি পাঁচ-বলে সম্পন্ন করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৬৫ ও ৪/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান সংগ্রহ করেন। অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের অপূর্ব বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ৬ আগস্ট, ১৯৯৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৪* ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭২ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক বুচারের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ২৩ রানে পরাভূত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০২ সালে নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ আগস্ট, ২০০২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একমাত্র ইনিংসে ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৫ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৫ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২৯১৯ তারিখে ডার্বিশায়ারের টি২০ দলের প্রধান কোচ হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। তিনি জন রাইটের স্থলাভিষিক্ত হন। ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে ডার্বিশায়ারের টি২০ উত্থানে নেতৃত্ব দানের কথা ঘোষণা করেন। তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার কোয়ার্টার-ফাইনালে অংশ নেয়ার পর তিনি এ দায়িত্ব পালনের কথা জানান।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জিটিজি কর্ক নামীয় সন্তানের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট