১৪ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে ত্রিনিদাদের বারাপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মাঝে-মধ্যে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

খুব ছোট বেলা থেকে তরতর করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। সপ্তদশ জন্মদিনের পূর্বে সাউথ ও সেন্ট্রাল ত্রিনিদাদের পক্ষে তিনদিনের খেলার সুযোগ পান। এর অল্প কিছুদিন পর ত্রিনিদাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে কুইন্স পার্ক ওভালে গায়ানার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ড প্রেসিডেন্টস কাপের মাধ্যমে খেলার জগতে ফিরে আসেন। বার্বাডোসের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় দলের সংগ্রহ ৩৩/৪ থাকাকালে চার নম্বর অবস্থানে খেলতে নামেন। ১৩৮ রান তুলে সর্বোচ্চ সংগ্রাহকে পরিণত হন ও নিশ্চিত পরাজয়ের কবলে পড়লেও তাঁর দল জয়ের সন্ধান পায়।

১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৪৮ টেস্ট, ৩৫টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ধৈর্য্যশীলতা অবলম্বনে ক্রিস গেইলের বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৯ বছর বয়সে ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই শন পোলকের শিকারে পরিণত হন। জন্টি রোডসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ঐ সিরিজের ছয় ইনিংস থেকে তিনি মাত্র ৭৫ রান তুলতে পেরেছিলেন। শন পোলকের প্রিয় শিকারে পরিণত হন ও সবগুলোতেই বিদেয় নেন। এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়েন।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ফিল্ডিংকালে আঙ্গুলে আঘাত পেলে তিনি আর মাঠে নামেননি। ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৫ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ এগিয়ে যায়।

২০০০-০১ মৌসুমে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৩ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২০ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ইনিংস ও ১২৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০১-০২ মৌসুমে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩১ জানুয়ারি, ২০০২ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২০ ও ৩৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, শোয়েব আখতারের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ক্যারিবীয় দল ১৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১১৭ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রিকি পন্টিংয়ের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১১৮ রানে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩-০৪ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৬ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মাখায়া এনটিনি’র বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। হার্শেল গিবসের দূর্দান্ত শতকের উপর ভর করে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১০ এপ্রিল, ২০০৪ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অপরাজিত চতুর্শতকের কল্যাণে খ্যাতি পাওয়া ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০৬ সালে নিজ দেশে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ২০০৬ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। বীরেন্দ্র শেহবাগের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০০৭ সালে রামনরেশ সারওয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ২০০৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৫ ও ০ রান তুলে উভয় ক্ষেত্রে স্টিভ হার্মিসনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০০৭-০৮ মৌসুমে ডোয়াইন ব্র্যাভো’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১০ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক স্প্রিংবকের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ১১ রান সংগ্রহ করেন। অ্যাশওয়েল প্রিন্সের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০০ রানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। টেস্টগুলো থেকে তিন শতক সহযোগে ২৫.৭১ গড়ে ২১৬০ রান তুলেছেন।

দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় করে রেখেছেন। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পক্ষে ২০১২ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সফলতার সাথে খেলতে থাকেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। ৬ জানুয়ারি, ২০১২ তারিখে দিল্লিতে টিএন্ডটির প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিশ্বেস্বরের সাথে ব্রায়ান লারাসহ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাৎ করেন। ২৩ জুলাই, ২০১৪ তারিখে ড্যারেন গঙ্গা ফাউন্ডেশন থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কোচিং বিষয়ক ডিভিডি উন্মোচন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট