|

ক্রিস টাভারে

২৭ অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে কেন্টের অর্পিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘টাভ’ ডাকনামে ভূষিত ক্রিস টাভারে ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। সেভেনোক্স স্কুলে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। দৃঢ়প্রাচীর গড়ে তুলতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। ‘গরীবের জিওফ বয়কট’ হিসেবে পরিচিতি পান। সকল ধরনের শট খেলতে পারলেও খেলার পরিস্থিতি বিবেচনায় খুব কমই নিজেকে মেলে ধরেছেন। ডেভিড গাওয়ার, অ্যালান ল্যাম্ব, ইয়ান বোথাম ও তাঁদের সহযোদ্ধাদেরকে উপযুক্ত সহায়তা করতে পারেননি।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও সমারসেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কেন্টের পক্ষে সফলতম সময় অতিবাহিত করার পর ১৯৮৮ মৌসুম শেষে দল ছেড়ে দেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের বাদ-বাকী সময় সমারসেটের সদস্য হন। সমারসেটের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। পাঁচ বছর সেখানে খেলেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম মৌসুম শেষে ভিক মার্কস জাতীয় সংবাদপত্রে চাকুরী পেলে এ দায়িত্ব তাঁর উপর বর্তিয়েছিল। এ সময়ে একদিনের প্রতিযোগিতায় দল কিছুটা সফলতার সন্ধান পায়।

১৯৯৩ মৌসুমে এসে সেরা সময় অতিবাহিত করেন। সদ্য যোগ দেয়া অ্যান্ডি ক্যাডিক, মুশতাক আহমেদসহ নীল মল্যান্ডারকে নিয়ে সহসা বোলিং আক্রমণে সমৃদ্ধ হয়ে উঠে তাঁর দল। অধিনায়ক ও প্রথম স্লিপে দণ্ডায়মান থেকে দারুণভাবে দলকে পরিচালনা করেছিলেন। মে মাসে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে মার্কাস ট্রেসকোথিকের অভিষেক ঘটা খেলাটি দুই দিনব্যাপী স্থায়ী ছিল। কয়েকবার দল সেমি-ফাইনালে গেলেও দূর্ভাগ্যবশতঃ পরাজিত হয়েছিল।

১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ৩১ টেস্ট ও ২৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ মে, ১৯৮০ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

একই সফরের ৫ জুন, ১৯৮০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৩ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই জোয়েল গার্নারের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। অ্যান্ডি রবার্টসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা নাটকীয়ভাবে ২ উইকেটে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৮১ সালে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৪ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ডেনিস লিলি’র আপ্রাণ বোলিং প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় বেশ অ-জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে পার্থে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮৯ রানের পীড়াদায়ক ইনিংস উপহার দেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের প্রথম ইনিংসে অর্ধ-শতক হাঁকাতে ৩৫০ মিনিট সময় ব্যয় করেন। তাঁর তুলনায় কেবলমাত্র ট্রেভর ‘বার্নাকল’ বেইলি ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ৩৫৭ মিনিটে অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে টেস্টে এগিয়ে রয়েছেন। এরপর, মেলবোর্নে সিরিজের চতুর্থ টেস্টেও সমসংখ্যক রান তুলেন। তবে, তা সম্পূর্ণই ভিন্নভাবে খেলেছিলেন। মেলবোর্ন টেস্টে তাঁর দল তিন রানের নাটকীয় জয় পেয়েছিল।

১৯৮৯ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর সেভেনোক্স স্কুলে ২৪ বছর শিক্ষকতা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও সন্তানের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট