১৯ এপ্রিল, ১৮৭৩ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের স্মেথউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ব্যাটসম্যান হিসেবে ডন ব্র্যাডম্যানের সাথে বোলার হিসেবে খুব সম্ভবতঃ তিনি শীর্ষে আরোহণ করছেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকসহ সমসাময়িক খেলোয়াড় ও পর্যবেক্ষকদের অভিমত তিনি সর্বকালের সেরা বোলার ছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ১৬.৪৩ গড়ে ১৮৯ উইকেট এবং সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে ৮.৩৩ গড়ে ৬২২৯ উইকেট দখল করেছিলেন।
চমৎকার ক্রিকেটার ও অদ্ভূত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। নিখুঁততা, বৈচিত্র্যতা ও উভয় দিক দিয়েই সিম আনয়ণে মাধ্যমে অসাধারণ পরিসংখ্যান গড়েছেন। সন্দেহাতীতভাবে ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ বোলার হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেছেন। ১৮৯৪ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ওয়েলসের পক্ষে খেলেছেন।
১৯০১ থেকে ১৯১৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৭ টেস্ট অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০১-০২ মৌসুমে এ.সি. ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন দূর্বলমানের এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯০১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কলিন ব্লাইদ, জন গান ও লেন ব্রন্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১২৪ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯০৭-০৮ মৌসুমে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ২২* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৭ ও ১/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৩০৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৭/৬০ ও ১/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৪৯ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯০৯ সালে নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৩৭ ও ৬/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে ১ রান করে সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে চার্লস ম্যাকার্টনি’র শিকার পরিণত হয়েছিলেন। ১২৬ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৬ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৫৬ ও ১/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ফ্রাঙ্ক লেভারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৯ আগস্ট, ১৯০৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৫৭ ও ২/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে বার্ট হপকিন্সের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯১১-১২ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১০৭ ও ১/৭২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৪৬ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/৭৪ ও ২/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে রঞ্জী হরডার্নের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ইনিংস ও ২২৫ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩/৫৬ ও ৪/১০৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯১২ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দূর্দান্ত বোলিং করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে উভয় দিক দিয়েই বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করেন। সঠিক নিশানা বরাবর বল ফেলে প্রথম চার ওভারে প্রথম দুই উইকেটের সন্ধান পান। ফ্রাঙ্ক ফস্টারকে নিয়ে উভয়ে পাঁচ-উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ৫৮ রানে গুটিয়ে দেন। ফলো-অনের কবলে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দল তৃতীয় দিন ১১৪/৪ নিয়ে খেলা শুরু করে। বিস্ময়করভাবে ভালোমানের বোলিং করতে থাকেন। শেষ তিন উইকেট নিয়ে খেলায় ১১০ রানের বিনিময়ে ১১ উইকেটের সন্ধান পান।
৮ জুলাই, ১৯১২ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৬/৫২ ও ৪/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১৭৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
এরপর, ১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/২০ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। স্বাগতিকরা ২৪৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
১৯১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এ সফরে স্ত্রী, পুত্র সহযোগে জাহাজে চড়ে যান। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে টিএ ওয়ার্ডের পঞ্চম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে শূন্য রানে রান-আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৫৭ ও ৫/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৫৭ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৬ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে জেএল কক্সকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৮/২৯। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৮/৫৬ ও ৯/১০৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* রান সংগ্রহ করেন। ইনিংস ও ১২ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ৭/৫৬ ও ৭/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৫৭ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এরপর, ৩ মার্চ, ১৯১৪ তারিখে ৫-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পোর্ট এলিজাবেথে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে তিনি খেলেননি। কর্তৃপক্ষ তাঁর স্ত্রীর ব্যয়ভার বহনে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি অনঢ় থাকেন। এভাবেই তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপণ ঘটে। এ সফরের চার টেস্টে অংশ নিয়ে ১০.৯৩ গড়ে ৪৯ উইকেট দখল করেছিলন। অদ্যাবধি এ সংগ্রহটি বিশ্বরেকর্ড টিকে রয়েছে স্ব-মহিমায়। ১৯৫৬ সালের গ্রীষ্মে জিম লেকার ৪৬ উইকেট নিয়ে তাঁর কাছাকাছি আসলেও একটি টেস্ট বেশী খেলেছিলেন।
প্রথম বোলার হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৫০ উইকেট সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে তিনি ২৪তম খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের চাডসমুর এলাকায় ৯৪ বছর ২৫১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
