|

ফ্রাঙ্ক ফস্টার

৩১ জানুয়ারি, ১৮৮৯ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের ডেরিটেন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে সহজাত ভঙ্গীমায় মারকুটে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষাবলম্বন করতেন। ১৯০৮ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯১০ সালে ওয়ারউইকশায়ারের সফলতায় নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। এছাড়াও, কর্তৃপক্ষের সাথে পিতার সহায়তা নিয়ে কাজ করলে শৌখিন খেলোয়াড়ের মর্যাদা ধরে রাখাসহ কাউন্টির অধিনায়কত্ব করার সুযোগ ঘটে। ঐ মৌসুমে নিজস্ব সেরা সময় অতিবাহিত করেছেন। ২০ গড়ে ১৪১ উইকেট ও তিন শতক সহযোগে ৪২ গড়ে ১৬১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ২০০ রান তুলেন। ঐ খেলায় এক ঘণ্টায় ১০৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। চূড়ান্ত খেলায় নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ৭১ রান খরচায় ১১ উইকেট দখল করে দলের অবিশ্বাস্য শিরোপা বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন।

স্বল্প দূরত্ব নিয়ে দৌঁড়ে ও স্বাভাবিক ভঙ্গীমা প্রদর্শনে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। লেগ-তত্ত্ব বোলিংয়ের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে বডিলাইন সিরিজে ডগলাস জার্ডিন প্রয়োগ করেছিলেন।

১৯১১-১২ মৌসুম থেকে ১৯১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ১৯১১-১২ মৌসুমে প্লাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফিল মিড, ইয়ং জ্যাক হার্ন, জনি ডগলাসসেপ কিনিয়ারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত বোলিং করে অভিষেক খেলাকে স্মরণীয় করে রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ-উইকেট পান। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ২/১০৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৫৬ ও ২১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৪৬ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, মেলবোর্নে ৬/৯১ ও অ্যাডিলেডে ৫/৩৬ লাভসহ ৭১ রানের ইনিংস উপহার দেন। অ্যাশেজ সিরিজ জয়ে এসএফ বার্নসকে সাথে নিয়ে নতুন বলে জুটি গড়েন। ঐ সিরিজে ২১.৬২ গড়ে ৩২ উইকেট ও ৩২.২৮ গড়ে ২২৬ রান তুলেছিলেন।

১৯১২ সালে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ফ্রাঙ্ক মিচেলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার অংশগ্রহণে জনপ্রিয়তা না পাওয়া ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ১০ জুন, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫/১৬ বোলিং করে নিজেকে লর্ডস অনার্স বোর্ডে ঠাঁই করে নেন। সিডনি বার্নসকে সাথে নিয়ে ৯০ মিনিটের মধ্যে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেন। ইনিংসে প্রাপ্ত উইকেটগুলোর সবকটিই স্ট্যাম্পে আঘাতের মাধ্যমে পান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, দলের একমাত্র ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬২ রানে জয় পায়।

একই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৩ রান সংগ্রহসহ ০/৩ বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

এ প্রতিযোগিতায় ব্যাট ও বল হাতে নিজেকে মেলে ধরার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি। তাসত্ত্বেও, ১৮ গড়ে ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তাঁর দল ২৪৪ রানে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে অনেকের ন্যায় তাঁরও ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায়। ৩ মে, ১৯৫৮ তারিখে নর্দাম্পটনে ৬৯ বছর ৯২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট