|

কলিন ব্লাইদ

৩০ মে, ১৮৭৯ তারিখে কেন্টের ডেপ্টফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ইংল্যান্ডের সম্মুখসারির বিখ্যাত বামহাতি স্পিনারদের তালিকায় অন্যতম ছিলেন। ১৮৯৯ থেকে ১৯১৪ সময়কাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার ও কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও ইংল্যান্ড সাউথের পক্ষে খেলেছেন। ১৯০০ সালে কেন্টের ৫৩ নং ক্যাপধারী হন। টেস্টে ঠিক ১০০ উইকেট পেয়েছেন ১৮.৬৩ গড়ে এবং প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৬.৮১ গড়ে ২৫০৩ উইকেট লাভ করেন। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর রেকর্ড অসাধারণ ছিল। কেবলমাত্র সিডনি বার্নস তাঁর তুলনায় কম গড় নিয়ে ১০০ উইকেট পেয়েছেন। কেন্টের সেরা বোলার হিসেবে অধিকতর পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে, অনেক বছর পর ডেরেক আন্ডারউড তাঁর সাফল্যকে ছাঁপিয়ে যান।

অপর বিখ্যাত ক্রিকেটার উইলফ্রেড রোডসের সাথে খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। তবে, এ দুজনের মধ্যে কে সেরা তা নির্ধারণ করা বেশ কঠিন বিষয়। পরিসংখ্যানগতভাবে রোডস ব্যাটিং উপযোগী পিচেও যথেষ্ট সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। অপরদিকে তিনি ফ্লাইট ও স্পিনের কারণে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। প্রায়শঃই ভেজা কিংবা কিছুটা অনুপযোগী উইকেটে নিজেকে বেশ সমীহের পাত্রে পরিণত করতেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী হলেও আক্রমণাত্মক ধাঁচের অধিকারী ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বোলিং করতে ভালোবাসতেন ও বলে তাঁদেরকে কাবু করতে মুখিয়ে থাকতেন। তাঁর পেসের ভিন্নতা বেশ অপরিসীম ছিল। ফাস্ট বোলারদের গতির অনুরূপে বল ফেলতেন ও অনেকগুলোই স্ট্যাম্পে সরাসরি আঘাত হানতো।

১৯০১ থেকে ১৯১০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০১-০২ মৌসুমে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯০১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জন গান, লেন ব্রন্ড ও সিডনি বার্নসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/২৬ ও ৪/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১২৪ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯০২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০* ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৯ ও ২/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৩২৩ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০৫ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ৩ জুলাই, ১৯০৫ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৬ ও ৩/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯০৫-০৬ মৌসুমে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩০ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ১১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১০৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৬ রানে জয়ী হলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯০৭ সালে নিজ দেশে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। হেডিংলি টেস্টে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐ টেস্টে ১৫ উইকেট দখল করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার গুগলি বোলারদের তোপে পড়ে স্বাগতিক দল মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে গেলেও তিনি ইংল্যান্ড দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন। এছাড়াও, পূর্বেকার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইংল্যান্ডের একমাত্র জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। নিউল্যান্ডসে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১১ উইকেট পেয়েছিলেন ও নাইট-ওয়াচম্যানের ভূমিকায় থেকে ২৭ রান সংগ্রহ করেন। এ সংগ্রহটি তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানে পরিণত হয়।

১৯ আগস্ট, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৬১ ও ২/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯০৯ সালে নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মে, ১৯০৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত খেলে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। জর্জ হার্স্টের ৯ উইকেটের পাশাপাশি তিনি ১১ উইকেট দখল করেন। খেলায় তিনি ৬/৪৪ ও ৫/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৬ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। বল হাতে নিয়ে ৫/৬৩ ও ২/৭৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯০৯-১০ মৌসুমে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১১ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে এসভি স্যামুয়েলসনের তৃতীয় উইকেট লাভ করে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। নিজের শেষ টেস্টে ৭/৪৬ ও ৩/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ পর্যায়ে জ্যাক হবসের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে ব্যাটিং করেছিলেন। দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করলেও সফরকারীরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টের তুলনায় কাউন্টি ক্রিকেটে অধিকতর সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯০০ সালে ২১৫ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯০৭ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে একদিনে ১৭ উইকেট লাভ করেছিলেন। ১৯০৬ সালে ১৯.১৬ গড়ে মাত্র ৯০ উইকেট পেলেও কেন্ট দল প্রথমবারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভে সক্ষম হয়েছিল।

১৯০৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেটের বাইরে বেহালাবাদক হিসেবেও সুনাম কুড়ান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের কারণে অনেকের ন্যায় তাঁরও খেলোয়াড়ী জীবন ব্যাহত হয়। এক পর্যায়ে ৮ নভেম্বর, ১৯১৭ তারিখের রাতে বেলজিয়ামের পাসেনডেল এলাকায় ফরেস্ট হল থেকে পিমার্ন সামরিক রেললাইনের কাছাকাছি এলাকায় গোলায় তিনজন নিহত, ছয়জন আহত ও একজন নিখোঁজ হয়। ঘটনাস্থলে ৩৮ বছর ১৬২ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। এ সময়ে তিনি সার্জেন্ট পদবীধারী ছিলেন ও কর্পোরাল ক্লড উলি আহত হন। অক্সফোর্ড রোড সিমেট্রিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ক্যান্টারবারির দ্য স্পিটফায়ার গ্রাউন্ডে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় ও টনব্রিজ গীর্জায় স্মারকফলক লাগানো হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। মার্চ, ১৯০৭ সালে গ্রীনিচ রেজিস্ট্রি অফিসে তাঁর ছোট দশ বছরের ছোট টানব্রিজ ওয়েলসের জেনেট জারট্রুড ব্রাউন নাম্নী এক রমণীকে বিয়ে করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট