১০ এপ্রিল, ১৯৯৮ তারিখে কিসনা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলছেন।
‘কোডেস’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ইউজেতে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেং ও লায়ন্সের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, ডারহাম, এমপুমালাঙ্গা, পার্ল রয়্যালস, গটেং অনূর্ধ্ব-১৭ ও ১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত গটেং বনাম বোল্যান্ডের মধ্যকার অনুষ্ঠিত খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২৭ বছর বয়সী কডি ইউসুফ শুরুতে ব্যাটসম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে, স্পিন বোলিং করতে শুরু করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকাকালীন জনৈক বোলার আমাকে অনুশীলনীতে আঘাত করে বিদেয় করে। আমিও বল হাতে নিয়ে বলি যে, আমি দৌড়তে শুরু করেছি ও পেস বোলিং করতে শুরু করেছি। আমিও তাঁকে আঘাত করি। আমি তাই পছন্দ করি। আজকের দিনে এসে আমি আর আরেক ধরনের স্পিন বল করতে চাই না।’
তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন এমপুমালাঙ্গার মাধ্যমে অর্ধ-পেশাদারী পর্যায়ে শুরু হয়। এরপর, লায়ন্সে চলে যান। পূর্বেকার দুই মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতায় তিনি দলের শীর্ষ সিমারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে তিনি তালিকায় নবম স্থানে ও শেষ গ্রীষ্মে লুথো সিপামালা’র সাথে যৌথভাবে পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন। বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের সান্নিধ্যে তিনি বেশ উপকৃত হয়েছেন।
শেষ কয়েকমাসে ইউসুফের কাছে বেশ কিছু সুযোগ চলে আসে। ইংরেজ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম বিভাগে ডারহামের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০২৫ সালে চার খেলায় অংশ নিয়ে তিনি ২০.৯৪ গড়ে ১৭ উইকেট দখল করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘ইংরেজ পরিবেশে ডিউকস বল নিয়ে বোলিংয়ের বিষয়টি দক্ষিণ আফ্রিকায় বোলিং করে কিছুটা ভিন্নতর স্বাদ পেয়েছি। আমি এর মাধ্যমে অনেক কিছু শিখেছি।’
এছাড়াও, তিনি তাঁর পছন্দের শীর্ষে থাকা বেন স্টোকসের সাথে মিলিত হয়েছেন। আত্মবিশ্বাসের সাথে তাঁর একই নম্বর ৫৫ জাতীয় দলের পোশাকে রেখেছেন। ‘আমি মাত্র কয়েকটি নম্বর পেয়েছি ও আমি ৫৫ পেয়ে অত্যন্ত খুশী। আমি বেন স্টোকসের সাথে থেকেছি ও তাঁর ৫৫ নম্বর দেখেছি। তাই আমি এ ব্যাপারে বেশী সুখী।’
গেল ১১ বছরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা দল প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ে সফরে যায়। বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়ের বিশ্রাম গ্রহণের ফলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কেশব মহারাজের সাথে উদীয়মান ডিওয়াল্ড ব্রেভিস, ব্রিজকি ও লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াসকে এ সফরে রাখা হয়। ৬ জুন, ২০২৫ তারিখে সেনোকোয়ান, ইউসুফ ও সুব্রায়ানকে প্রথমবারের মতো টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। দলে যুক্ত নবাগতরা ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছেন। তন্মধ্যে, সেনোকোয়ান প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতায় চতুর্থ সর্বাধিক রান সংগ্রাহক ছিলেন। স্পিন-বোলিং অল-রাউন্ডার সুব্রায়ান গত মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহকারী ও সিমার ইউসুফ যৌথভাবে পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন।
বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিতব্য স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্যে ২৭ জুন তারিখে ঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা দলে লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াস ও ডিওয়াল্ড ব্রেভিসের সাথে তাঁকেও রাখা হয়।
২০২৩ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট খেলছেন। ২০২৫ সালে উইয়ান মুল্ডারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফর করেন। ২৮ জুন, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াস ও ডিওয়াল্ড ব্রেভিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৭ ও ৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে বোলিং ৩/৪২ ও ৩/২২ বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অপর অভিষেকধারী লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াসের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/২০ ও ২/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তিনি ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা উইয়ান মুল্ডারের অসাধারণ ত্রি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা খুব সহজেই ইনিংস ও ৩২৮ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ খোঁয়ায়।
