৮ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশগ্রহণ করেছেন।

২০২৩ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেংয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’, দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও পার্ল রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন। ১২ জুন, ২০২৩ তারিখে পল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা ‘এ’ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’-এর মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০২৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পঞ্চদশ আসরে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। সেমি-ফাইনালে তাঁর দল পরাজিত হলেও তিনি ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার পান। এ প্রতিযোগিতায় সাত খেলায় অংশ নিয়ে ওভারপ্রতি ৩.৮১ রান খরচ করে ৯.৭১ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেন। দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। তন্মধ্যে, তিনবার পাঁচ-উইকেট লাভ করে সমসংখ্যক ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৪ সালের আসরে কাগিসো রাবাদা’র স্মরণীয় সাফল্যের পর তিনিও দক্ষিণ আফ্রিকা দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ইএসপিএনক্রিকইনফো’র টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে নিজেকে ঠাঁই করে নেন।

বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার পূর্বেই দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলের কোচ শুক্রি কনরাডের নজরে পড়েন। কয়েক বছর পূর্বে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচের দায়িত্ব পালনকালে তিনি তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হন। ২০২২ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিন খেলায় অংশ নিয়ে সাত উইকেট পান। পরের বছর টেস্ট কোচ হিসেবে মনোনীত হবার পরও পরামর্শদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। জুন, ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের সদস্য করেন। এ সফরে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপূর্বে তিনি ঘরোয়া আসরে কোন লাল-বলের খেলায় অংশ নেননি। তবে, বিদ্যালয়ের পরীক্ষা থাকায় বিদেশের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ হারান।

২০২৪ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। জেরাল্ড কৎজি ও উইয়ান মুল্ডার আঘাতের কবলে পড়লে তাঁকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে দলে ভেড়ানো হয়। কিন্তু, সেন্ট জর্জেস পার্কে তাঁকে খেলানো হয়নি। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে আঘাতপ্রাপ্ত কেশব মহারাজ ও উইয়ান মুল্ডারসহ টেস্ট অভিজ্ঞতাহীন করভিন বসের সাথে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়।

৩ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪৩ ও ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। রায়ান রিকলটনের দূর্দান্ত দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভের পাশাপাশি ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

একই সফরের ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে কেপটাউনে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। অবশ্য টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই ২৩ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে তরুবায় অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

২০২৫ সালে কেশব মহারাজের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করে। ২৮ জুন, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯* ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫২ ও ০/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৮ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

সম্পৃক্ত পোস্ট