২৩ এপ্রিল, ১৯৩৭ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডনিব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ডনিব্রুকের বিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। এ সময়ে কিশোরদের ক্রিকেট ও কয়েকটি বড়দের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শক্ত মজবুত গড়ন ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ চিত্তের অধিকারী ছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত এক দশককাল প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এক পর্যায়ে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের উত্থানে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। অংশগ্রহণকৃত ৮৭ খেলার ৩৯টিতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রথম দ্বি-শতক হাঁকাতে ছয়টি ছক্কা ও ২০টি চারের মার মারেন। শেষ ১১২ রান তুলতে ৬৮ মিনিট ব্যয় করেন।

১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। কলিন গেস্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অস্ট্রেলিয়ার ২২৩ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯৬, ৭০ ও ৭৮ রান তুলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৪ মে, ১৯৬৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১০ উইকেটে জয় পেলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টের চৌদ্দ ইনিংস থেকে ৪১.৮৩ গড়ে ৫০২ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৩ রান তুলেছেন। পাঁচটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। বিল লরি ও বব সিম্পসনের ইনিংস উদ্বোধনে নামার ফলে তাঁকে মাঝারিসারিতে নামতে হয়েছিল। এছাড়াও, তিনি ডেভিড শেফার্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন।

২৮ বছর বয়সে এসে ১৯৬৬ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ পর্যায়ে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৫৫৪৮ রান তুলে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন ও অন্য যে-কোন ব্যাটসম্যানের চেয়ে সর্বাধিক ১৩ শতক হাঁকিয়েছিলেন। বব সিম্পসনের সাথে যৌথভাবে তিনটি দ্বি-শতরান তুলে শীর্ষে ছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪১.১৬ গড়ে রান পেয়েছেন।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর এক পর্যায়ে প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। এ পর্যায়ে এসিবি নির্বাহী, ইন্টারস্টেট ক্রিকেট এন্ড আম্পায়ার অ্যাপয়েন্টম্যান্ট কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯ সালে অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া পদকে ভূষিত হন। ওয়াকার প্রধান ফটক তাঁর সম্মানার্থে ব্যারি শেফার্ড ফটনা নামে নামাঙ্কিত করা হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিম্যান্টল এলাকায় ৬৪ বছর ১৪৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট