১০ অক্টোবর, ১৯৯১ তারিখে চিগুটু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম সফলতম অল-রাউন্ডার। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রালস, মাউন্টেনিয়ার্স ও সাউদার্ন রক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে হারারেতে প্রথমবারের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেন। ২৪ মার্চ, ২০০৯ তারিখে একই মাঠে সেন্ট্রালস বনাম নর্দার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এরপর থেকে তিন স্তরের ক্রিকেটেই প্রায় পাঁচ হাজার রান ও দেড় শতাধিক উইকেট লাভ করেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আশাতীত ভালো করেন। জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে ১৬ খেলায় অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫/২৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ২০০৯ সালে প্রাদেশিক ক্রিকেটে অংশ নেন। সেন্ট্রালসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে।
এরপর থেকে মাউন্টেনিয়ার্সের পক্ষ খেলতেন। ২০২০-২১ মৌসুমে রক্সে ফিরে যান। ২০১৪-১৫ মৌসুমে বিরাট সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষতঃ একদিনের খেলায়। প্রো৫০ চ্যাম্পিয়নশীপে রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় নিজেকে শীর্ষস্থানে নিয়ে যান। ৫৬.২০ গড়ে ৩৮১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০১৯-২০ মৌসুমের লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় ১৮.২০ গড়ে ১৫ উইকেট ও ২৬.৪৪ গড়ে ২৩৮ রান সংগ্রহ করেন। পরবর্তী গ্রীষ্মে ন্যাশনাল ক্রিকেট লীগে টাকাশিঙ্গা ক্রিকেট ক্লাবের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, লোগান কাপে সুন্দর খেলার ধারা অব্যাহত রাখতে সমর্থ হন। এ প্রতিযোগিতায় সেরা তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। সর্বনিম্ন ১০০ রানের মানদণ্ডে ৬২.৩৩ গড়ে ৩৭৪ রান তুলে মোট রান সংগ্রহ ও গড়ে শীর্ষে ছিলেন। এছাড়াও, ১৫.৫০ গড়ে ১২ উইকেট নিয়ে পঞ্চম শীর্ষস্থানীয় উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, লোগান কাপের শিরোপা বিজয়ে সাউদার্ন রক্সকে বিরাট সহায়তার হাত প্রশস্ত করেন।
শুধুমাত্র ঘরোয়া পর্যায়েই সফল ছিলেন না। ইংরেজ লীগ ক্রিকেটে দুই মৌসুম অতিবাহিত করেছেন। কাম্ব্রিয়া লীগের ক্লাব হ্যাভারিগের পক্ষে ২০১৮ সালে খেললেও আঘাতের কারণে স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে পারেননি। ১৬.০৮ গড়ে ৩৫ উইকেট পেয়েছিলেন। এরপর, ২০১৯ সালে সাসেক্স লীগে বোগনর রেজিসের সাথে খেলেন। ১১.৩৭ গড়ে ৪৬ উইকেট ও ৪৮.৫৫ গড়ে ৫৩৪ রান তুলেন। ২০২০ ও ২০২১ সালেও বোগনর দলের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। তবে, কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারীর কারণে আর খেলা হয়নি।
২০১৫ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১২ মে, ২০১৫ তারিখে পাকিস্তান গমনার্থে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য করা হয়। ৩১ মে, ২০১৫ তারিখে লাহোরে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। কিন্তু, দূর্ভাগ্যজনকভাবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে মাঠে নামতে পারেননি ও খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলার কারণে পুণরায় জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন। খেলায় তাঁকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়া হলেও দলে রাখা হয়।
বেশ কয়েক বছর উপেক্ষিত থাকার পর দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের কারণে ২০২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়। সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ২৯ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন। মিল্টন শুম্বা ও রিচার্ড এনগারাভা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলীয় সংগ্রহ ৩০/৪ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। ৭ বাউন্ডারির সাহায্যে ৯৪ বলে ৪৮ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন ও প্রথম ইনিংসে দলকে ১৭৬ রান তুলতে সহায়তা করেন। ইনিংস ও ১১৬ রানের ব্যবধানে তাঁর দল পরাজিত হয় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০২১ সালে নিজ দেশে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। ৭ জুলাই, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে তাঁর দল ২২০ রানে পরাজয়বরণ করে। খেলায় তিনি ০/৪৩ ও ০/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে জোড়া শূন্য রানে বিদেয় নেন।
