৩ নভেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
গ্রে হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ওয়ারিয়র্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডারবান্স সুপার জায়ান্টস, ইস্টার্ন প্রভিন্স অনূর্ধ্ব-১৫, দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ এর পক্ষে খেলেছেন। ডারবান সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক কেশব মহারাজের মতে তাঁর খেলার ধরন অনেকাংশেই বিরাট কোহলি’র অনুরূপ। ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ তারিখে ব্লুমফন্তেইনে ইস্টার্ন প্রভিন্স বনাম ফ্রি স্টেটের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
চটপটে শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ও চমৎকার ফিল্ডার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রচণ্ড চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। কিশোর অবস্থাতেই তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর লক্ষ্য করা যায়। ১৪ বছর বয়সে গ্রে হাইয়ের প্রথম একাদশে অন্তর্ভুক্ত হন। দুই বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত হন। যুবদের ২৫টি ওডিআইতে এক হাজারের অধিক রান করেছেন। ২০১৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্য ছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় দলের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ঐ বছরের শেষদিকে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ইমার্জিং স্কোয়াডের সদস্যরূপে নির্বাচিত হন। ২০১৮-১৯ মৌসুমের গ্রীষ্মে ইস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে প্রাদেশিক পর্যায়ে প্রথমবারের মতো খেলেন।
পেশাদারী পর্যায়ে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করতে ব্রিজকি’র কয়েক মৌসুম সময় লেগে যায়। এক পর্যায়ে দীর্ঘ সংস্করণের উপযোগী করে তুলেন। ২০২২-২৩ মৌসুমে সিএসএ চার-দিনের প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। ঐ প্রতিযোগিতায় ১৪ ইনিংসে ৬০.৫৮ গড়ে তিনটি শতক ও চারটি অর্ধ-শতক সহযোগে রান সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি, দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রেও স্বীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০আই দলে খেলার জন্যে নির্বাচিত হন। ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে তাঁর অভিষেক হয়।
২০২৪ সালের এসএ২০ প্রতিযোগিতায় তিনি তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন এবং সিএসএ টি২০ চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় শীর্ষ ব্যাটসম্যান ছিলেন। তবে এ ধরনের সাফল্য প্রদর্শন স্বত্ত্বেও তাঁকে ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে জায়গা এনে দিতে পারেনি। এর পরিবর্তে তিনি নর্দাম্পটনশায়ারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন ও টি২০ খেলায় ধারাবাহিকভাবে বেশ রান সংগ্রহ করতে থাকেন। ২০২৪ সালের ভাইটালিটি ব্লাস্টে শীর্ষ রান সংগ্রাহকদের অন্যতম ছিলেন। একই বছরের আগস্ট মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্য তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে যুক্ত করা হয়।
২০২৩ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশের সফরে ১৫-সদস্যের দক্ষিণ আফ্রিকান দলের একমাত্র টেস্ট অভিজ্ঞতাবিহীন খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ২১ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে তাইজুল ইসলামের বলে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরৎ যান। তবে, কাইল ভেরিনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৫ সালে কেশব মহারাজের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করে। ২৮ জুন, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে তানাকা চিভাঙ্গা’র বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, অভিষেকধারী লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৮ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
