৩০ মে, ১৮৯২ তারিখে লন্ডনের চেলসী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অত্যন্ত সুপরিচিত শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এডউইন উইলফ্রেড স্ট্যানিফোর্থের সন্তান ছিলেন। এটনে পড়াশুনো শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। কোন ব্লু লাভ করতে না পারলেও স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ক্রিকেট জগতের একনিষ্ঠ শুভাকাঙ্খী ও তারকা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯১৪ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯১৪ সালে এমসিসি’র বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। উভয় ইনিংসে ৪ রান করে পেয়েছেন এবং একমাত্র ক্যাচ লাভ করেছিলেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে পরবর্তী আট বছর কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেননি। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত ছিলেন। মিলিটারি অর্ডার ও রয়্যাল ভিক্টোরিয়ান অর্ডার লাভ করেন। যুদ্ধের পর কম্বাইন্ড সার্ভিসেস, আর্মি ও এমসিসি’র পক্ষে খেলেন। ১৯২৩ সালে লর্ডসে কেমব্রিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৯ রান তুলেছিলেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের সহকারীর দায়িত্বে থেকে আর্জেন্টিনা গমন করেন। দুই বিশ্বযুদ্ধের মাঝখানের সময়ে প্রায় দুই দশক ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। তবে, ব্যাট হাতে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেননি।
১৯২৭ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র চার টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। নিজ কাউন্টি ইয়র্কশায়ারের পক্ষে প্রায় দুই দশক খেলে তেমন সাফল্যের স্বাক্ষর না রাখা সত্ত্বেও আকস্মিকভাবে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। এরফলে, প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেয়ার গৌরব অর্জন করেন। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐ সিরিজে তাঁর দল জয়লাভ করেছিল। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ওয়ালি হ্যামন্ড, জিওফ্রে লেগ, ইয়ান পিবলস, বব ওয়াট ও ইউয়ার্ট অ্যাস্টিলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৮ জানুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১ ও ৬* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৬১টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ছয়টি অর্ধ-শতক সহযোগে ১৭.৩৩ গড়ে ১০৯২ রান তুলেছেন। এছাড়াও, ৭২ ক্যাচ ও ২১ স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।
২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ইয়র্কশায়ারের কির্ক হ্যামারটন হল এলাকায় ৭১ বছর ২৬৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি লেফটেন্যান্ট-কর্নেল রোনাল্ড স্টেনিফোর্থ নামে পরিচিতি পান।
