৫ মে, ১৯১১ তারিখে চেশায়ারের ডাকিনফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৫ থেকে ১৯৫৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র একটি টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৯ সালে নিজ দেশে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম বলেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান টাইরেল জনসন, ওয়াল্টার কিটনের বিদেয় হবার পর মাঠে নামেন। ম্যানি মার্টিনডেললিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনের ন্যায় বোলারদের রুখে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ৮০ রান তুলেন। এ পর্যায়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে লেন হাটনের সাথে ১৩১ রান যুক্ত করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আরও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সব মিলিয়ে ঐ টেস্টে ৯৯ রান তুলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপর আর ইংল্যান্ড দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পাননি। অল্প কয়েকদিন পরই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। এছাড়াও, দুইবার অনুল্লেখ্য সফরে যান। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে স্যার জুলিয়ান কানের দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড এবং ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে কমনওয়েলথ দলের সাথে ভারত গমন করেন। শেষোক্ত সফরে পূর্ণাঙ্গ শক্তিধর ভারতীয় বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে অনানুষ্ঠানিক প্রথম তিন টেস্ট থেকে শতক হাঁকিয়ে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছিলেন।

বিশ্বযুদ্ধ শেষে হলে ৩৫ বছর বয়সে ল্যাঙ্কাশায়ার কর্তৃপক্ষ তাঁকে আর দলে রাখেনি। এ পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৮ শতক সহযোগে ৩৭.৯০ গড়ে ১৭৮১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এগারো মৌসুমে সহস্র রান ও ১৯৪৯ সালে একবার দুই সহস্রাধিক রান পেয়েছিলেন। এরপর, লীগ ক্রিকেটে অংশ নেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে এক টেস্টে অংশ নেয়া আশিজন খেলোয়াড়ের মধ্যে কেবলমাত্র তিনিই সর্বাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৬০ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ও ১৯৬২ সালে লর্ডসে দুইটি টেস্ট খেলা পরিচালনা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তিন পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। ১৯ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ক্লিভলিজ এলাকায় ৮৪ বছর ৩৫০ দিন বয়সে নিজ গৃহে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট