|

ওয়াল্টার কিটন

৩০ এপ্রিল, ১৯০৫ তারিখে ডার্বিশায়ারের শায়ারব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দৃষ্টিনন্দন সহজাত ব্যাটিং করতেন। ড্রাইভ ও কাটের সাহায্যেই তাঁর স্ট্রোকগুলো গড়ে উঠতো। শুরুরদিকে ম্যান্সফিল্ড কোলিয়ারি সিসি’র পক্ষে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। জুন, ১৯২৫ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেন। ঐ গ্রীষ্মে দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে তিনটি খেলায় অংশ নেন ও ১৯২৬ সালে ট্রেন্ট ব্রিজের কর্মী হিসেবে মনোনীত হন। ১৯২৬ সালে দ্বিতীয় একাদশের ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন। একই বছরের জুলাইয়ে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ার বনাম হ্যাম্পশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ৩৩৪ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে দারুণ খেলা উপহার দিতে সচেষ্ট ছিলেন। নটিংহ্যামশায়ারের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৯ সালে মিডলসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ ইনিংসটি ঐ মৌসুমের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহসহ নটিংহ্যামশায়ারের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ও অদ্যাবধি টিকে রয়েছে। নটিংহ্যামশায়ারের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে দুইবার ত্রি-শতাধিক রানের ইনিংস খেলেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পূর্বে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং উদ্বোধনে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের অন্যতম ছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশগ্রহেণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালে নিজ দেশে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ জুলাই, ১৯৩৪ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৩৯ সালে নিজ দেশে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দূর্ভাগ্যবশতঃ জ্যাক হবস, হার্বার্ট সাটক্লিফ, লেন হাটনসিরিল ওয়াশব্রুকের ন্যায় খেলোয়াড়দের সাথে তাঁকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। তাঁদের সাথে পেরে উঠেতে পারেননি। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে মাত্র ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৫৪টি শতক সহযোগে ৩৯.৫৩ গড়ে ২৪২৭৬ রান তুলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রীড়া সরঞ্জাম বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হন। পরবর্তীতে, ন্যাশনাল কোল বোর্ডের কেরাণী হিসেবে কাজ করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও দক্ষ ছিলেন। সান্ডারল্যান্ড, নটিংহাম ফরেস্ট ও গ্রান্থাম টাউনের পক্ষে ইনসাইড রাইট অবস্থানে খেলতেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯২৯ সালে ম্যান্সফিল্ডে ফ্লোরেন্স ই রাসেল নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ১০ অক্টোবর, ১৯৮০ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের ফরেস্ট টাউন এলাকায় ৭৫ বছর ১৩৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট