| |

সিরিল ওয়াশব্রুক

৬ ডিসেম্বর, ১৯১৪ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যারো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং উদ্বোধন কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। প্রায়শঃই তাঁকে ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইংল্যান্ড দলের অন্যতম সেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্বিতীয় একাদশের সদস্যরূপে মৌসুমের প্রথম খেলায় ২০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাঁর এ প্রচেষ্টায় তাঁকে প্রথম একাদশে যুক্ত করা হয়।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। কাউন্টির ইতিহাসে অন্যতম বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন পাড় করেছেন। প্রায় তিন দশক ওল্ড ট্রাফোর্ডভিত্তিক কাউন্টিতে খেলে নিয়মিতভাবে অগণিত রান তুলেছেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন। সাসেক্সের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন।

পরের খেলায় সারের বিপক্ষে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। আল্ফ গোভার, ফ্রেডি ব্রাউন ও পার্সি ফেন্ডারের ন্যায় বোলারদের রুখে দিয়ে ১৫২ রান তুলেন।

১৯৩৭ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৩৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ৪২.৮১ গড়ে আড়াই হাজারের অধিক রান তুলেছেন। লেন হাটনের সাথে অবিস্মরণীয় উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন। ৫৩বার ব্যাটিংয়ে নেমে তাঁরা ৫৮ গড়ে ২৯০০ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, ৫১বার ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৬০ গড়ে ২৮৮০ রান তুলেছিলেন।

১৯৩৭ সালে নিজ দেশে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ডেনিস কম্পটনঅস্টিন ম্যাথুজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৯ ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২১ মার্চ, ১৯৪৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ২৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে টাফটি মানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ২ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৪ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

এরপর, ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৯৭ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৪৮ সালে নিজ দেশে অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিতে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন ‘অপরাজেয়’ নামধারী অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুন, ১৯৪৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৩৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৪০৯ রানের বিশাল জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৫০-৫১ মৌসুমে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৫ জানুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৩ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৬ সালে নিজ দেশে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৪১ বছর বয়সে ২৩ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে রন আর্চারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চৌত্রিশ হাজারের অধিক রান তুলেছিলেন। ১৯৫৪ সালে প্রথম পেশাদার অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৫৯ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৪৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ‘দ্য ফাইনাল টেস্ট’ নামীয় টেরেন্স র‍্যাটিগ্যানের চলচ্চিত্রে অ্যালেক বেডসার, লেন হাটন, ডেনিস কম্পটন, জিম লেকারগডফ্রে ইভান্সের ন্যায় ইংরেজ টেস্ট ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে অভিনয় করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কাউন্টি দলটির সাথে নৈকট্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। ১৯৬৪ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনসহ ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সময়কালে কাউন্টির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

২৭ এপ্রিল, ১৯৯৯ তারিখে চেশায়ারের সেল এলাকায় ৮৪ বছর ১৪২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট