| |

ডেনিস স্মিথ, ১৯০৭

২৪ জানুয়ারি, ১৯০৭ তারিখে ডার্বিশায়ারের সমারকোটস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং ও ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৭ থেকে ১৯৫২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯২৭ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত দলটিতে খেলেছিলেন। ফ্রাঙ্ক ওলি’র সাথে তাঁকে তুলনা করা হতো। ১৯৩০-এর দশকে কাউন্টি ক্রিকেটে ক্রমাগত রান সংগ্রহ করে গেছেন।

১৯৩৫ সালে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেছিলেন। ঐ মৌসুমে ২১৭৫ রান তুলেছিলেন। এরফলে, ইংল্যান্ড দলে তাঁকে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ১৮৯ ও হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ২২৫ রানের ইনিংস খেলে তাঁর দলে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এনে দেয়। দ্বি-শতক হাঁকানোকালে তিনি বুকের পাঁজরে আঘাত পান। ঐ মৌসুমে বহিঃ একাদশের সদস্যরূপে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। হ্যাডলি ভেরিটি’র বোলিংয়ের তোপে পড়ে বহিঃএকাদশ মাত্র ১১২ রানে গুটি গেলেও তিনিই কেবলমাত্র দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছিলেন। ৭৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

১৯৩৫ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। উভয় টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছেন। ঐ বছর নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৩ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। জো হার্ডস্টাফ, জিম সিমসউইল্ফ বারবারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নেমে ৩৬ ও ৫৭ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে আর্থার মিচেলের সাথে ১২৮ রানের জুটি গড়েন। তবে, উভয় ইনিংসেই সিরিল ভিনসেন্টের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। এ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৫ রান তুলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে বব ক্রিস্পের লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। এভাবেই তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ সিরিজে ইংল্যান্ড দলে কয়েকজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে খেলানো হয়। পরবর্তী মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে তাঁকে আর দলে রাখা হয়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ডার্বিশায়ারের পক্ষে খেলা চলমান রাখেন। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আরও দুই মৌসুম খেলেছিলেন। ব্রাডফোর্ড লীগে খেলাকালীন উইকেট-রক্ষণের অভিজ্ঞতা দলে কাজে লাগান।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ডার্বিশায়ারের কোচ হিসেবে হ্যারি এলিয়টের স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯৫২ সালে জরুরীভাবে একটি খেলায় অংশ নেন।

৪৪ বছর ডার্বিশায়ার দলের সাথে সম্পর্ক রেখে অবশেষে ১৯৭১ সালে অবসর নেন। তবে, জীবনের শেষ পর্যন্ত দলের সাথে সম্পর্ক রেখেছিলেন। ১৯৩৬ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে ডার্বিতে ৭২ বছর ২৩১ দিন বয়সে আকস্মিকভাবে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট