| |

উইল্ফ বারবার

১৮ এপ্রিল, ১৯০১ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ক্লেকহিটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ব্যাটসম্যান হিসেবে খাঁটি মানসম্পন্ন কার্যকর ব্যাটিং কৌশল অবলম্বন করতেন। অফ-সাইডে স্ট্রোক খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এ ধরনের খেলা ইয়র্কশায়ারের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার উপযোগী ছিল। তবে, দলে স্থান লাভে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁকে অবতীর্ণ হতে হয়। ১৯৩২ সাল পর্যন্ত দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেতেন না। তবে, পার্সি হোমসের অসুস্থতার কারণে খেলার সুযোগ পেয়ে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৪৭ সময়কাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অব্যাহত রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ইয়র্কশায়ারের পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন।

ব্যাটসম্যান হিসেবে আদর্শস্থানীয় সেবা প্রদান করেছেন ও সীমানা বরাবর দ্রুতগতিসম্পন্ন বিশেষতঃ লেগ বাউন্ডারি অঞ্চলে ফিল্ডিং করতেন। ইয়র্কশায়ার কাউন্সিল ক্রিকেটে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। সংগৃহীত ১৬৪০২ রানের মধ্যে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে ১৫২৮৯ রান তুলেছেন ৩৪.৩৮ গড়ে। ২৯টি শতকের ২৭টি কাউন্টির পক্ষে করেছেন। আট মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯৩৫ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেছেন। ৪২.০৯ গড়ে ২১৪৭ রান তুলেছেন। ঐ বছর চারবার তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৮৫ রান শেফিল্ডের ব্রামল লেনে সারের বিপক্ষে করেছিলেন।

১৯৩৫ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ঐ বছর নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন সফররত স্প্রিংবকের বিপক্ষে খেলেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৯৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ১৩ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ডেনিস স্মিথ, জো হার্ডস্টাফ ও জিম সিমসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৪ ও ১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আটবার চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। কিন্তু, ঘরোয়া পর্যায়ের সফলতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিচ্ছুরিত ঘটাতে পারেননি। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর হ্যারোগেটভিত্তিক বিদ্যালয়ের কোচ ও মাঠ কর্মকর্তার যৌথ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ব্রাডফোর্ড এলাকার একটি হাসপাতালে স্বল্পকালীন রোগে ভোগে ৬৭ বছর ১৪৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ডব্লিউ. ই. বোস ইয়র্কশায়ার ইভনিং পোস্টে লিখেছিলেন যে, ‘স্যার লিওনার্ড হাটনের চেয়েও তিনি অনেক ঊর্ধ্বে ছিলেন। তিনি ছকে বাঁধা খেলোয়াড় ছিলেন।’

সম্পৃক্ত পোস্ট