|

জিম সিমস

১৩ মে, ১৯০৩ তারিখে এসেক্সের লেটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে তিনি দলে ভূমিকা পালন করতেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝারিসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দলীয় সঙ্গীদের কাছে ‘সিম্মো’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। উচ্চমানের ক্রীড়াসূলভ মনোভাবের পরিচয় দিতেন ও মানবিক মূল্যবোধের অধিকারী ছিলেন। আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। ১৯২৯ থেকে ১৯৫৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯ সালে মিডলসেক্সের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলেন। আট মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৯ সালে ২০.৩০ গড়ে সর্বাধিক ১৫৯ উইকেট দখল করেছেন। মিডলসেক্সের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন।

১৯৩৫ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র চার টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনবার এমসিসি দলের সদস্যরূপে বিদেশ গমন করেন। ১৯৩৫-৩৬ ও ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এবং ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে ব্রিঙ্কম্যান থেকে দক্ষিণ আমেরিকা যান।

১৯৩৫ সালে নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৩ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ডেনিস স্মিথ, জো হার্ডস্টাফ ও উইল্ফ বারবারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২০ ও ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৩৫ ও ২/১০৯ লাভ করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৩৬৫ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। টেস্টগুলো থেকে ১১ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৪৮ সালে কিংস্টন-আপোন-টেমসে অনুষ্ঠিত উৎসবের খেলায় ইস্টের সদস্যরূপে ওয়েস্টের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১০/৯০ লাভ করে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নিয়ে যান। ১৯৫৩ সালে এমসিসি’র পক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। গুগলিতে প্রতিপক্ষের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় লেগ-ব্রেক ও গুগলিতে নিজেকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলতেন। দ্রুততার সাথে বোলিং করায় শুষ্ক ও ধূলোময় পিচকে বেছে নিতেন। মিডলসেক্সের পক্ষে ১৫৮১টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছেন। আটবার মৌসুমে শত উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চারটি শতক ও ২১টি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছেন।

১৯৫৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৬৯ থেকে মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত মিডলসেক্সের কোচ ও স্কোরারের দায়িত্ব পালন করেছেন। কাউন্টির দ্বিতীয় একাদশ দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর স্কোরারের দায়িত্ব পালন করেন। উৎফুল্ল চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। সাজঘর আমোদ-প্রমোদে মত্ত রাখতেন। ২৭ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে কেন্টের ক্যান্টারবারির হোটেলে ৬৯ বছর ৩৪৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট