২২ আগস্ট, ১৮৯৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ম্যালডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
‘দ্য রক’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। পিতার ছত্রচ্ছায়ায় ক্রিকেট খেলায় হাতেখড়ি ঘটে। ১৯২১-২২ মৌসুম থেকে ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভিক্টোরিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৬টি শতরানের ইনিংস খেলেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে সেরা উদ্বোধনী জুটির সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। বিল পন্সফোর্ডকে সাথে নিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ৩৭৫ রান তুলেছিলেন।
১৯২৬ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৬ সালে তাঁকে শেষ মুহুর্তে ইংল্যান্ড গমনার্থে ওয়ারেন বার্ডসলি’র নেতৃত্বধীন অজি দলে যুক্ত করা হয়। ১২ জুন, ১৯২৬ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
দ্বিতীয় টেস্টে মাঝামাঝি অবস্থানে বেশ হিমশিম খান। হেডিংলিতে তৃতীয় টেস্টে ইনিংস উদ্বোধনের সুযোগ পেয়ে ১৪১ রান তুলেন। একই সফরের ২৪ জুলাই, ১৯২৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এ সফরে অস্ট্রেলিয়ার সর্বাধিক রান সংগ্রহের কৃতিত্বের অধিকারী হন।
১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ নভেম্বর, ১৯২৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৩০* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৬৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে তাঁর দল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৩০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৮ মার্চ, ১৯২৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১০২ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাকি গ্রান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮৩ রান সংগ্রহ করে রান-আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১২২ রানে পরাজিত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩১-৩২ মৌসুমের মেলবোর্ন টেস্টে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬১ রান তুলেন। নয়বার তিন অঙ্কের জুটি গড়েছেন। তন্মধ্যে সতীর্থ ভিক্টোরীয় বিল পন্সফোর্ডের সাথে করেছেন তিনটি। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টে ১৬২, ওভাল টেস্টে ১৫৯ ও ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ১০৬ রানের জুটি গড়েছিলেন। তিনবার ইংল্যান্ড গমন করেছেন। প্রত্যেকবারই খুব সহজে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। ১৯২৬ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে লেটনে অনুষ্ঠিত প্রথম খেলায় এসেক্সের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২০১ রান তুলেন। আট শতক সহযোগে ৫৮.৩৮ গড়ে ১৮০৯ রান তুলে শীর্ষে ছিলেন। ১৯৩০ সালে ছয় শতক নিয়ে ৫৭.৩৬ গড়ে ১৪৩৫ এবং চার বছর পর দলের নেতৃত্বে থেকে তিন শতক সহকারে ৫২.৮৩ গড়ে ১২৬৮ রান তুলেছিলেন।
২৫ টেস্টে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক দল ১০ উইকেটের ব্যবধানে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩৪ সালে অজি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৮ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৪৯ ও ১৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বিল বোসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। সফরকারীরা ৫৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে সাত শতক সহযোগে ৪৬.০০ গড়ে ২৩০০ রান তুলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৯টি শতরানের ইনিংস খেলেছেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে অস্ট্রেলীয় একাদশের সদস্যরূপে অকল্যান্ডে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৮৪ রান করেন।
১৯২৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে স্পোর্টস অস্ট্রেলিয়া হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওবিই পদবী লাভ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১২ জানুয়ারি, ১৯২৭ তারিখে মেলবোর্নের মেথডিস্ট চার্চে গিন্ডা মারিয়েল নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তান ছিল। ১১ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের টুইড হেডস সাউথ এলাকায় ৬৭ বছর ৩৫৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এ সময়ে তিনি গল্ফ খেলছিলেন।
