|

ব্রুস মার্টিন

২৫ এপ্রিল, ১৯৮০ তারিখে নর্থল্যান্ডের হোয়াঙ্গারেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০১০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে তারকা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁকে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে রাখা হলে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। পরের বছর সফররত ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে যুব টেস্ট ও একদিনের সিরিজে অংশ নেন।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরপর থেকে উভয় দলের পক্ষে এক দশকের অধিক সময় শতাধিক প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এর পরই কেবলমাত্র জাতীয় দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলেন। এরপর, অকল্যান্ড দলে চলে যান। কাকতালীয়ভাবে অকল্যান্ডের সদস্যরূপে সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে প্রথম খেলায় অংশ নেন ও প্রতিপক্ষকে এক চোট নেন। প্রথম ইনিংসে ৭/৯৭ পান। তাঁর এ অসামান্য সফলতা স্বত্ত্বেও অকল্যান্ড দল ঐ খেলায় নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে জয় পায়।

২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৩ বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার পর অবশেষে মার্চ, ২০১৩ সালে তারকা খেলোয়াড় ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র স্থলাভিষিক্ত হন। ২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৬ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হামিশ রাদারফোর্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৪৩ ও ১/৯০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

নিজস্ব প্রথম টেস্টের পাঁচ উইকেট লাভ করলেও পরবর্তীতে তিনি আর এ ধরনের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। তরুণ লেগ-স্পিনার ইশ সোধি’র উত্থানে দলে স্থান লাভ করা তাঁর জন্যে বেশ দূরূহ হয়ে দাঁড়ায়। তাসত্ত্বেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চৌদ্দ বছরের অভিজ্ঞতালব্ধ ছিলেন। নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেছেন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৯ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১১২ ও ২/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সোহাগ গাজী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

৩০ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে ক্রিকেটে অংশ নেয়ার এক বছরের কম সময়ের মধ্যে তাঁকে ঘরোয়া চুক্তিতে আবদ্ধ না করে অবহেলার শিকারে পরিণত করা হয়েছে।

সম্পৃক্ত পোস্ট