১১ মার্চ, ১৯৮৭ তারিখে ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দৃশ্যতঃ সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে নিজের উপযোগিতার কথা তুলে ধরেছেন। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, বাল্খ লিজেন্ডস, ব্রাম্পটন উল্ভস, দিল্লি ক্যাপিটালস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচী কিংস, নর্থ আইল্যান্ড, নর্থ ওয়েস্ট ড্রাগন্স, পার্থ স্কর্চার্স, সিডনি সিক্সার্স ও ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ৭ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অকল্যান্ড বনাম ক্যান্টারবারির মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে খেলেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটের শুরুটা তেমন দর্শনীয় ছিল না। টি২০ খেলায় নিজেকে মেলে ধরতে কিছুটা সময় ব্যয় করেন। এইচআরভি কাপের শিরোপা বিজয়ী অকল্যান্ড দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এরপর, ২০১২ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ প্রতিযোগিতায় অকল্যান্ড এইসেস দলের অন্যতম সদস্য হন। অবশেষে, দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।
২০১২ সাল থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ৫৭টি ওডিআই ও ৬৫টি টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য হন। ২১ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন। এরপর, একই সিরিজে তাঁর ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। মারকুটে বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ২২ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কিম্বার্লীতে ব্ল্যাক ক্যাপসের সদস্যরূপে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তাঁর। সিরিজের দ্বিতীয় খেলায় নিজস্ব প্রথম ওডিআই অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন।
পরবর্তীতে, ১১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২০১২-১৩ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। কিন্তু, প্রথম ইনিংসে গোল্ডেন ডাকের সন্ধান পান। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি ২/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৩ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় ওডিআই অর্ধ-শতক হাঁকান। এরপর, টি২০আইয়ে মাত্র ৩৯ বলে ঝড়োগতিতে ৭৩ রান তুলে সিরিজে নিউজিল্যান্ডের একমাত্র বিজয়ে অংশ নেন।
২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ের একটি খেলায় ঝড়োগতিতে ১৪ বলে অর্ধ-শতক হাঁকান। এরফলে, টি২০আইয়ের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধ-শতরানের কৃতিত্বের অধিকারী হন। সাত ছক্কায় এ ইনিংসটি কেবলমাত্র যুবরাজ সিংয়ের ১২ বলের অর্ধ-শতকের পিছনে রয়েছে। এছাড়াও, একই খেলায় মার্টিন গাপটিলের ১৯ বল থেকে ৫০ রান সংগ্রহের পূর্বেকার রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড গড়েন।
২০১৭ বিগ ব্যাশ লীগ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে অস্ট্রেলীয় টি২০ লীগের দল সিডনি সিক্সার্সের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এসসিজিতে সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে তিনি প্রথম খেলেন। এরপূর্বে ২০১৬ সালের আইপিএলের আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সদস্য ছিলেন। একই বছর ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সে যোগ দেন। ২০১৮ সালের আইপিএল আসরে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে খেলেন।
