| |

জ্যাক রবার্টসন

২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৭ তারিখে মিডলসেক্সের চিজউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

দীর্ঘকায়, সুদর্শন ও ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী ব্যাটসম্যান ছিলেন। তবে, দূর্ভাগ্যবশতঃ তিনি ভুল সময়ে খেলার জগতে প্রবেশ করেছিলেন। নিখুঁতমানসম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে ২২ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে মিডলসেক্সের ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে-পরে ৩৮ গড়ে রান তুলেছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৪৭ সালের গ্রীষ্মে ডেনিস কম্পটনবিল এডরিচের সাথে তিনি দলের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে যথার্থ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ঐ মৌসুমে তাঁদের সাথে তিনিও সপাটে রান তুলতে থাকেন। এগারো শতক সহযোগে ২৩২৮ রান পেয়েছিলেন।

১৪ মৌসুম থেকে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তন্মধ্যে, একবার বিদেশের মাটিতে করেছিলেন। নয় মৌসুমে দুই হাজার রানের সন্ধান পান।

১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে এগারো টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ৪৬.৩৭ গড়ে ৮৮১ উইকেট দখল করেছিলেন। মাত্র দুইবার নিজ দেশে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয়ক্ষেত্রেই আঘাতের কারণে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। দুইবার এমসিসি দলের সাথে বিদেশ সফরে যান।

১৯৪৭ সালে নিজ দেশে অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৬ আগস্ট, ১৯৪৭ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ডিক হাওয়ার্থের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ১৩৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ৩ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৩ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৭ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৬৪ ও ২৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে হাইন্স জনসনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ১০ উইকেটে পরাজিত হলে তাঁর দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। 

১৯৪৯ সালে নিজ দেশে ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ১৯৪৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ ও ১২১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৭ ও ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ৬৭ শতক সহযোগে ৩৭.৫০ গড়ে ৩১৯১৪ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, অফ-স্পিন বোলিংয়ে ৩৪.৭৪ গড়ে ৭৩ উইকেট পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, ৩৫০টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

১৯৫৯ সালে ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিংয়ের দিকে ধাবিত হন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে মিডলসেক্স দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। শুরুতে সহকারী কোচ ও পরবর্তীতে মিডলসেক্সের প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন।

১৯৪৯ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর, ১২ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে সাফোকের বারি সেন্ট এডমন্ডস এলাকায় ৭৯ বছর ২৩৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন জয়েস নাম্নী তদ্বীয় পত্নী ও এক পুত্র রেখে যান।

সম্পৃক্ত পোস্ট