১৯ মে, ১৯১০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কার্নারভন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক, লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সন্দেহাতীতভাবে নিজ প্রজন্মের অন্যতম সেরা দর্শনীয় ব্যাটসম্যান ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মাঝে ক্রিকেটীয় প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। ট্রিনিটি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। বিস্ময়করভাবে সঠিক সময়ে বলকে মোকাবেলা করার গুণাবলী তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল। তাঁর খেলার ধরন তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে আদর্শস্থানীয় ছিল ও খুব কম ঝুঁকি নিয়ে খেলতেন।

১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও ট্রান্সভাল এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নাটালের পক্ষে ১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩০ মৌসুম, ট্রান্সভালের পক্ষে ১৯৩৬-৩৭ থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম এবং সাসেক্সের পক্ষে ১৯৩২ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত খেলেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত সাসেক্সের দলনেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৩৮ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বিলি ওয়েড, জেরাল্ড বন্ড, নরম্যান গর্ডনপিটার ফন ডার বিলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে এক পর্যায়ে হ্যাডলি ভেরিটি’র বলে পিঠে আঘাত পান ও তাঁর বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

দ্বিতীয় টেস্টে ফিল্ডিংকালে আহত হন। নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩ রান তুলেন। অবশেষে ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৩ রান অতিক্রম করেন। ইনিংস উদ্বোধনে নেমে দলের একমাত্র ইনিংসে ধৈর্য্যশীলতা অবলম্বনে ৬৭ রান তুলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অসীম সময়ের ঐ টেস্টে বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৬৭ রান অতিক্রম করেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় নম্বর অবস্থানে নেমে এ সফলতাকে আরও ছাঁপিয়ে যান। ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৮ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৭৮ ও ১০৩ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৪৭ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর স্প্রিংবককে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ড সফর যান। ৭ জুন, ১৯৪৭ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০৩ রান অতিক্রম করেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮৯ ও ১০৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ ও ২৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রোলি জেনকিন্সের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৪৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অনেকগুলো বছর দক্ষিণ আফ্রিকার দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৮ এপ্রিল, ১৯৮৩ তারিখে ট্রান্সভালের ক্রুজার ন্যাশনাল পার্কের স্যাবাই এলাকায় ৭২ বছর ৩৩৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট