|

জ্যাক ব্রাউন

২০ আগস্ট, ১৮৬৯ তারিখে ইয়র্কশায়ারের গ্রেট ড্রিফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৮৮৯ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ইয়র্কশায়ারের তারকা ব্যাটসম্যানের খ্যাতি অর্জন করেন। জন টানিক্লিফের সাথে সুন্দর বোঝাপড়ায় ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ১৮৯৮ সালে চেস্টারফিল্ডে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ৫৫৪ রানের জুটি গড়েন। তিনি ঠিক ৩০০ রান করেছিলেন। দীর্ঘ ৩৪ বছর তাঁদের এ সংগ্রহ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে টিকেছিল ও যে-কোন উইকেট সর্বোচ্চ সংগ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তীতে, ১৯৩২ সালে অপর দুই ইয়র্কশায়ারীয় ব্যাটসম্যান – পার্সি হোমসহার্বার্ট সাটক্লিফ মাত্র এক রানের ব্যবধানে রেকর্ডটি নিজেদের করে নেন।

১৮৯৪ থেকে ১৮৯৯ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৮৯৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আর্চি ম্যাকলারিন, ফ্রান্সিস ফোর্ডলেসলি গে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২২ ও ৫৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় সফরকারীরা নাটকীয়ভাবে ১০ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২৯ ডিসেম্বর, ১৮৯৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৩৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৯৪ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১১ জানুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৯* ও ২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩৮২ রানে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

প্রথম দুই টেস্টে সফরকারী দল দুই টেস্টে জয় পায় ও স্বাগতিক দল পরবর্তী দুই টেস্টে জয়ী হলে সিরিজ সমতায় আসে। চূড়ান্ত টেস্টের উপর সিরিজের নিষ্পত্তি নির্ভর করে। ১ মার্চ, ১৮৯৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। এ টেস্টে ১৪৫ মিনিটে ১৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। ২৯৭ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ইংল্যান্ড দলের সংগ্রহ ২৮/২ থাকা অবস্থায় তিনি মাঠে নামেন। ২৮ মিনিটে অর্ধ-শতক করেন। ৮৮ রানে জর্জ গিফেনের বলে স্লিপ অঞ্চলে দণ্ডায়মান হ্যারি ট্রট ক্যাচ ফেলে দেন। ৯৫ মিনিটে শতক হাঁকান। এ পর্যায়ে আলবার্ট ওয়ার্ডের সাথে ২১০ রানের জুটি গড়ে খেলায় জয় এনে দেয়াসহ সিরিজ করায়ত্ত্বে অংশ নেন। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে মন্তব্য করা হয় যে, ‘দর্শকেরা তাঁর এ বিশাল ইনিংসকে পুণঃপুণঃ স্বাগত জানায় ও অভিনন্দনে সিক্ত করে।’ এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করে সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৯৬ সালে নিজ দেশে হ্যারি ট্রটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জুলাই, ১৮৯৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল ঐ টেস্টে দলের প্রয়োজনে জুটি ভাঙতে নিয়মিত উইকেট-রক্ষক ডিক লিলি’র লেগ-ব্রেক বোলিংয়ের প্রয়োজন পড়লে তিনি উইকেট-রক্ষণে নিয়োজিত ছিলেন। খেলায় তিনি ২২ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৮৯৯ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৭ ও ১৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১৯০১ সালে লিডসে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। একই মাঠে পূর্ববর্তী বছরে জর্জ হার্স্টের আর্থিক সুবিধার খেলার চেয়েও তিনি লাভবান হন। ৪ নভেম্বর, ১৯০৪ তারিখের রাত্রিতে লন্ডনের পিমলিকো এলাকায় ড. কিংসকোটস মেডিক্যাল হোমে মাত্র ৩৫ বছর ৭৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তিনি মস্তিষ্কের প্রদাহ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট