২৭ জানুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে ওরচেস্টারশায়ারের নর্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বিখ্যাত ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামে পরিচিত দাদা জর্জ হ্যাডলি ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ২২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। অপরদিকে পিতা রন হ্যাডলি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ডার্বিশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ‘ফ্রগ’ ডাকনামে পরিচিত ডিন হ্যাডলি ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ওরচেস্টারভিত্তিক রয়্যাল গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি উভয় দিক দিয়ে বলে সুইং আনয়ণ করতে পারতেন।
১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট ও ১৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে নিজ দেশে পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৯ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটে।
১৯৯৭ সালে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩ জুলাই, ১৯৯৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৭২ ও ৪/১০৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে বৃষ্টি ও মন্দালোকের কারণে সন্ধ্যে ৭.১০ ঘটিকা পর্যন্ত সময়সূচী বৃদ্ধি করা হয়। পিচের মাঝখানে দৌঁড়ানোর কারণে তাঁকে সতর্কবার্তা দেয়া হয়। তবে, স্টিভ ওয়াহ’র জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৬৮ রানে পরাজয়বরণ করলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১২ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭৪ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক রামপ্রকাশের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অ্যালেক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। অ্যাশেজ সিরিজে দূর্দান্ত খেলেন। তিন টেস্ট থেকে ১৯ উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। এ সিরিজে তিনিই ইংল্যান্ডের সর্বাধিক চলমান বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। বক্সিং ডে টেস্ট পুরোপুরি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায় ও ৬০০০০ দর্শকের আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খেলা শুরু হবার পূর্বক্ষণে বৃষ্টি আঘাত হানে। খেলায় তিনি ব্যক্তিগত সেরা ৬/৬০ লাভ করেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ০/৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করাসহ ব্যাট হাতে ১৪ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে গ্লেন ম্যাকগ্রা’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১২ রানে পরাজয়বরণ করলেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯৯ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৫ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ১/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০০ সালে ইসিবি কর্তৃক প্রথম ১২জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আসেন। তবে, ক্রমাগত পিঠের আঘাতের কারণে বেশ আগেভাগেই পরের বছর তাঁকে এ চুক্তির বাইরে চলে আসতে হয়। সূচনালগ্নে বেশ প্রতিশ্রুতিশীল সুইং বোলার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। বলে অতিরিক্ত পেস আনয়ণ করতে পারতেন। ২৭.৮৫ গড়ে ৬০ উইকেট দখল করেছেন। কমপক্ষে ৫০ উইকেট লাভকারী যে-কোন ইংরেজ বোলারের স্ট্রাইক-রেটে সর্বকালের তালিকায় দশম স্থানে রয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৮.৫২ গড়ে ৪৬৬ উইকেট দখল করেছেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২৮ মে, ২০২১ তারিখে ইসিবি কর্তৃক ম্যাচ রেফারি হিসেবে ডেভন ম্যালকমের সাথে তাঁকে মনোনীত করা হয়। একটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট, ১০টি লিস্ট-এ ক্রিকেট ও দুইটি টি২০ খেলা পরিচালনা করেছেন।
