৮ আগস্ট, ১৯৬৪ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের অ্যাশবি-ডি-লা-জোখ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নরফোক ও স্টাফোর্ডশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৪ থেকে ২০০১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮৭ সালে ডার্বিশায়ার থেকে বিদেয় হবার পর স্টাফোর্ডশায়ারের দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। পক্ষে দুই বছর পর ১৯৯০ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে খেলেন। বামহাতে সিম বোলিং করে ০/৯২ পান। তাসত্ত্বেও, নর্দান্টস কর্তৃপক্ষের সাথে ১৯৯১ সালে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
ধারাবাহিকভাবে খেলার আঠারো মাস পর ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ভারত গমনের জন্যে মনোনীত হন।
১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্ট ও একটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে শ্রীলঙ্কা সফরে একমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নেন। একই মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ভারত সফরে যান। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৭৪ রান খরচ করে একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ ও ১৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের অসামান্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ঐ টেস্টের পর দল থেকে বাদ পড়েন।
১৯৯৪ সালে তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ঐ বছর নিজ দেশে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জুন, ১৯৯৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেললেও তা আশাপ্রদ ছিল না। শেষদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে স্টিভ রোডসের সাথে খেলে দলের বিপর্যয় রোধ করতে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক মাইক অ্যাথারটন তাঁর কাছ থেকে খুব কমই আত্মবিশ্বাসী হয়েছিলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ০ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৬৪ ও ১/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডিওন ন্যাশের অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর কাউন্টি ক্রিকেটে ফিরে আসেন। খোলা বক্ষে দৃঢ়চেতা বোলিং করতেন। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বল ফেলতেন। বলকে উভয়দিক দিয়েই ঘুরাতে পারতেন। ২০০১ সালে নিজের শেষ মৌসুমের পূর্ব পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ৫০ উইকেট পেতেন। ত্রিশের কোটায় এসেও তখনো তিনি দেশের অন্যতম ভালোমানের উদ্বোধনী বোলার হিসেবে ছিলেন। কাউন্টি ক্রিকেটে সচরাচর আট নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে নামতেন।
