২০ মে, ১৯৯২ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টের রিচমন্ড হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সাত বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ১২ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিক ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। পিতার অনুপ্রেরণায় ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। শৈশবকাল থেকে স্পিন বোলিং করতে উদ্বুদ্ধ হন। যে-কোন স্তরের ক্রিকেট খেলা দেখলেও ৫০-ওভারের ক্রিকেটই তাঁর অধিক পছন্দ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো পাদপ্রদীপে চলে আসেন। তিন খেলা থেকে পাঁচ উইকেটের সন্ধান পান। এ সফরের পূর্বে একটিমাত্র লিস্ট-এ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। রঙ্গনা হেরাথ ও শেন ওয়ার্নকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। এছাড়াও, ক্রিস গেইল, শেন ওয়ার্ন ও মারলন স্যামুয়েলস তাঁর আদর্শস্থানীয়।
২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস এবং কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সাজিকর হাই পারফরম্যান্স সেন্টারের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ মার্চ, ২০১২ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত বার্বাডোস বনাম লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০১৪-১৫ মৌসুমে দূর্দান্ত সময় অতিবাহিত করেন। ১৪.৯৭ গড়ে ৪৯ উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও, দুইবার ইনিংসে আট উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। সুলেইমান বেনের দলে স্থানচ্যূতি ও বীরস্বামী পারমলের সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারায় তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এনে দেয়। অক্টোবর, ২০১৫ সালে তাঁকে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে দলে ঠাঁই দেয়া হয়।
২০১৫ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৫-১৬ মৌসুমের সোবার্স-তিসেরা ট্রফিতে অংশ নিতে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২২ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত খেলায় তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ টেস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ৪/৬৭ নিয়ে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। ঐ টেস্ট ছয় উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ২০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের সুবাদে স্বাগতিকরা ৭২ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
এ সফরের পর জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ডাউন আন্ডার গমন করেন। কিন্তু, অস্ট্রেলীয় পিচে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। এ সফরে ৩৮০ রান খরচায় মাত্র পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে মেলবোর্নের বক্সিং ডেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১১* ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১১৩ ও ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। নাথান লায়নের অনবদ্য বোলিং কৃতিত্বে সফরকারীরা ১৭৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা বোলার হিসেবে ফ্রাঙ্ক ওরেল ট্রফি লাভ করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশের মেহেদি হাসান মিরাজকে বিদেয় করে দলের সিরিজ বিজয় নিশ্চিত করেন।
২০১৯-২০ মৌসুমে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে ভারত গমন করেন। ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে ভারতের লখনউয়ে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৫ ও ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রহকিম কর্নওয়ালের অপূর্ব বোলিংয়ের কল্যাণে ঐ টেস্টে আফগান দল ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।
২০২১-২২ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৫০ ও ০/৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে ১ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৬৪ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২৩ সালে নিজ দেশে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুলাই, ২০২৩ তারিখে রোজিওতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ১৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে বিদেয় নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দূর্দান্ত বোলিং ও যশস্বী যশওয়ালের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪১ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২৪ সালে নিজ দেশে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে কে রাবাদা’র চতুর্থ উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪/৬৯ ও ২/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিংশৈলী স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে কামরান গুলামকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৫০। এ ইনিংসে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৩/৬৯ ও ৭/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এ পর্যায়ে ৩০.৩৪ গড়ে ৬৪ উইকেট দখল করেছেন। এছাড়াও, ৩১* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, সাজিদ খানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২৭ রানে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৪৩ ও ৫/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩৬* ও ১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২০ রানে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি, এ সিরিজে ৮৫ রান সংগ্রহসহ ১৯ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
২০২৫ সালে নিজ দেশে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত দিবা-রাত্রির তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মিচেল স্টার্কের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৬ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৩৬* ও ১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৪৩ ও ৫/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১২০ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি, এ সিরিজে ৮৫ রান সংগ্রহসহ ১৯ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
২০২৬ সালে নিজ দেশে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/১১২ ও ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫* ও ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। আব্দুল্লাহ শফিকের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়।
