|

নাসিম শাহ

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ তারিখে খাইবার পাখতুনখোয়ার লোয়ার ডির এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী ডানহাতি ফাস্ট বোলার। পেস ও সুইং সহযোগে বোলিংয়ে বৈশ্বিকভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে মধ্য পাঞ্জাব ও জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত ২০১৮-১৯ মৌসুমের কায়েদ-ই-আজম ট্রফি প্রতিযোগিতায় লাহোর ব্লুজ বনাম জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০১৯-২০ মৌসুমের ন্যাশনাল টি২০ কাপ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে খুব শীঘ্রই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ছয়জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে নজর তালিকায় যুক্ত হন।

পছন্দের তালিকায় ওয়াকার ইউনুসকে সর্বাগ্রে রেখেছেন। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিজেকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সম্মুখ পানে ধাবিত হয়েছেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনালে পাকিস্তান বনাম ভারতের মধ্যকার খেলাটি গ্রামের বড় পর্দায় দেখেন ও এক পর্যায়ে পাকিস্তানের পক্ষে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। তবে, তাঁর পিতা খেলায় মনোনিবেশের বিষয়টি ভিন্ন চোখে দেখেন। মাত্র পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের পরপরই অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট খেলার জন্যে জাতীয় দলে আমন্ত্রিত হন।

২০১৯ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে আজহার আলী’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২১ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের কনিষ্ঠদের তালিকায় নবম স্থানে অন্তর্ভুক্ত হন। ৭ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ছন্দোবদ্ধ দৌঁড়ে নিখুঁত নিশানা বরাবর বোলিং করে থাকেন। পরের মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টেস্টে পাঁচ-উইকেট পেয়েছেন তিনি। ১৬ বছর ৩০৭ দিন বয়সে টেস্টে পাঁচ-উইকেট নিয়ে কনিষ্ঠ ফাস্ট বোলার হিসেবে পাঁচ-উইকেট পান। ঐ খেলায় তাঁর দল বিজয়ী হয়। কয়েক সপ্তাহ পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেককালীন প্রয়াত মাতার উদ্দেশ্যে এ সাফল্যকে উৎসর্গ করেন।

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাইজুল ইসলামমাহমুদুল্লাহকে বিদেয় করে সর্বকনিষ্ঠ ফাস্ট বোলার হিসেবে হ্যাট্রিক লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।

তাঁর সম্পর্কে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক আজহার আলী মন্তব্য করেছেন যে, দক্ষতা, ফুরফুরে মেজাজ ও নিজের বোলিং সম্পর্কে বেশ সচেতন ছিলেন। ব্যাটসম্যানকে তিনি খুব সহজেই চিহ্নিত করতে সক্ষম। খুব কমসংখ্যক খেলোয়াড়ই স্বল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের মানদণ্ডে পৌঁছতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন।

২০২৪ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২১ মার্চ, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৯৩ ও ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাসত্ত্বেও, মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৯২ ও ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এইডেন মার্করামের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

সম্পৃক্ত পোস্ট