১১ মার্চ, ১৯৮২ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বেশ কয়েকজন উদীয়মান পাকিস্তানী ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শুরুতে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, করাচী ও পাকিস্তান কাস্টমসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইসিএল পাকিস্তান একাদশ ও মুম্বই চ্যাম্পসের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট ও ১৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ বছর ২২৭ দিন বয়সে ২৪ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। মোহাম্মদ হুসাইনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, জন্মসনদ ও মেডিক্যাল টেস্টে সন্দেহ পোষণ করায় পরবর্তীতে পিসিবি কর্তৃক এ রেকর্ড প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তাঁর প্রকৃত বয়স অনিশ্চিত থাকলেও অভিষেককালীন ১৫ বছরের কাছাকাছি হবার কথা জানানো হয়। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলনায়ক ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

একই সফরে ৩০ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে কোয়েটায় তিনি প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। খেলায় বেশ সমীহের পাত্র হলেও পরবর্তীতে এ ধারা আর অব্যাহত রাখতে পারেননি।

তবে, ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটসহ ‘এ’ দলের পক্ষে বেশ সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন অব্যাহত রাখেন। এরপর, ২০০২-০৩ মৌসুমে শারজায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে পুণরায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। অপরাজিত ৫৪ ও ৬৮ রান তুললেও উভয় ইনিংসেই বেশ ধীরলয়ে খেলেন। পরবর্তীতে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরও দুই টেস্টে অংশ নিলেও পুণরায় তাঁকে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়।

২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৯ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসে ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ ইউসুফের মনোমুগ্ধকর দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০০ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

বলের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখলেও স্বতঃস্ফূর্ততা কিংবা যথার্থ স্ট্রোকপ্লে করতে পারতেন না। ‘এ’ দলের পক্ষে খেলে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। ২০০৬ সালে আবুধাবিতে ইউরএশিয়া কাপে ‘এ’ দলের বিজয়ে যথার্থ ভূমিকা রাখেন। তবে, অনুমোদনবিহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে অংশ নিয়ে দলে ফেরার সম্ভাবনাকে বেশ ঝুঁকির মুখে ফেলে দেন।

২০১১ সালে হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ পর্যায়ে ১৭ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত কায়েদ-ই-আজম ট্রফির প্রথম বিভাগের চূড়ান্ত খেলায় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বিপক্ষে দলের শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট