৩১ জুলাই, ১৯১২ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের টুওম্বা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
পছন্দনীয়, জনপ্রিয় ও বিনম্রচিত্তের অধিকারী ছিলেন। ডালউইচ হিল প্রাইমারি ও পিটারশাম হাইয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন।
রক্ষণাত্মক পাথরপ্রাচীর গড়ে তুলে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, উচ্চমানসম্পন্ন ফিল্ডিং করতেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক পর্বটি মোটেই সুবিধের হয়নি। গাব্বায় অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় কোন বল মোকাবেলা করা ছাড়াই রান-আউটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, ঐ একই মাঠ থেকে বিদায়বরণ করেছিলেন।
ক্রমাগত দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে দলের শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এরফলে, জাতীয় দলে খেলার পথ প্রশস্ত হয়।
১৯৩৪ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২২টি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩৪ সালে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়ে টেস্ট দলে জায়গা করে নেন। ৮ জুন, ১৯৩৪ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার চিপারফিল্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, মারিকভিল সিসি’র প্রথম টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। ৭৩ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২৩৮ রানে জয় পেয়ে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। লর্ডসে পরের টেস্টে নিজ প্রথম শতক হাঁকান।
একই সফরের ২০ জুলাই, ১৯৩৪ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ১৮ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে নবি ক্লার্কের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৫৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
এরপর, ১৯৩৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও ব্যাপক রান তুলেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ভিক রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৬ ও ৫৫ রান সংগ্রহ করেন। ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। এ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দল ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও পরবর্তীতে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল। ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ২০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৩৬৫ রানে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৯ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে তিনি ৪২ ও ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল ১৪৮ রানে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা আনে।
১৯৩৮ সালে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৮ ও ১৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২২ জুলাই, ১৯৩৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২২ ও ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৫ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, লর্ডস টেস্টে দ্বি-শতক হাঁকান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। ২০ আগস্ট, ১৯৩৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। লেন হাটনের ৩৬৪ রানের কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকা ঐ টেস্টে তিনি ৬৯ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৭৯ রানে জয়লাভ করলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে টেস্ট ক্রিকেট পুণরায় শুরু হলে নিজের ছন্দহীনতা লক্ষ্য করেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ২৯ মার্চ, ১৯৪৬ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটিতে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। চার-দিন নিয়ে গড়া ঐ টেস্টটি দুই দিনে শেষ হয়ে যায়। ইনিংস ও ১৩৩ রানে জয়লাভ করে তাঁর দল।
১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ২২৬ রানে জয় পায় এবং পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন ও ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন ‘অপরাজেয়’ নামধারী অজি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে খেলার জগৎ থেকে দূরে ছিলেন। ২৪ জুন, ১৯৪৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৪ ও ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪০৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত কুইন্সল্যান্ডের দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার দল নির্বাচক হন। ১৯৯২ সালে কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্যরূপে মনোনীত হন। ২০০০ সালে ক্রিকেটে অসামান্য ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া পদকে ভূষিত হন।
১৬ মার্চ, ২০০৮ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের মুরুম্বা ডাউন্স এলাকায় কয়েক মাস অসুস্থ থাকার পর ৯৫ বছর ২২৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
