৮ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিলিঞ্জ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক, ধারাভাষ্যকার ও সাংবাদিক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯০-এর দশকে ৪৩ টেস্টে অংশ নিয়ে ২৬.৮৬ গড়ে ১৬৫ উইকেট দখল করে যে-কোন ইংরেজ বোলারের চেয়ে উইকেট সংগ্রহ কিংবা বোলিং গড়ে সেরাদের কাতারে নিয়ে গিয়েছিলেন। তেরোবার পাঁচ-উইকেট নিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড্যারেন গফের (৬) চেয়ে বেশ এগিয়ে থাকেন। তবে, তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন ৪৬ টেস্টে ১৭৭ উইকেট লাভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
‘গাস’ কিংবা ‘ন্যাট’ ডাকনামে ভূষিত অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। অরেঞ্জ হাই সিনিয়র হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। দলের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ধ্রুপদীশৈলীর ইংরেজ সিমার হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের দিকে বল ফেলতেন। তবে, ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্তি ও অদ্ভূত দল গঠনে তিনি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রায় দুই বছর কোমরের আঘাতের কারণে খেলতে পারেননি ও দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি রে ইলিংওয়ার্থ তাঁর মাঝে শারীরিক সুস্থতা খুঁজে পাননি।
১৯৮৯ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৪৬ টেস্ট ও ৪২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৬৩ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ রান তুলে রান-আউটে বিদেয় নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮৯-৯০ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/২৮ ও ১/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যালান ল্যাম্বের দূর্দান্ত শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা খুব সহজেই ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৯০ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। দলের ২৪৭ রানের বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ৫/১০৪ নিয়ে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে চিত্রিত করেন। গ্রাহাম গুচের রেকর্ডসংখ্যক ৩৩৩ রানের ব্যক্তিগত ইনিংসের কল্যাণে অপরাপর বোলারদেরকে নিয়ে ভারতকে প্রথম ইনিংসে স্বল্প রানে গুটিয়ে দেন। নবজ্যোৎ সিঁধু, দিলীপ বেঙ্গসরকার, কিরণ মোরে, সঞ্জীব শর্মা ও নরেন্দ্র হিরবাণী’র উইকেট পান। ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস থেকে আরও তিন উইকেট দখল করে সহজ বিজয় নিশ্চিত করেন।
একই সফরের ২৩ আগস্ট, ১৯৯০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে মনোজ প্রভাকরের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৯৪ সালে নিজ দেশে কেন রাদারফোর্ডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জুন, ১৯৯৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/১০২ ও ০/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডিওন ন্যাশের অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে।
১৯৯৫ সালে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/৬৬ ও ০/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। অভিষেকধারী ডমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণ করে।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলার একমাত্র ইনিংসে তিনি ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। তবে, প্রথম দিন বল বিপজ্জ্বনকভাবে লাফিয়ে উঠে ব্যাটসম্যানদেরকে আঘাতের কারণে ১০.১ ওভার শেষে ৫৬ মিনিট পর দলের সংগ্রহ ১৭/৩ থাকাকালে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১২ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮০ ও ১/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক রামপ্রকাশের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৯৮ সালে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক ক্যালিসের প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৩ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ৫/৬০ ও ৫/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অপূর্ব বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একই সফরের ৬ আগস্ট, ১৯৯৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৫/৪২ ও ৩/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ১* রান সংগ্রহ করেন। মার্ক বুচারের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ২৩ রানে পরাভূত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অ্যালেক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত বক্সিং ডে টেস্টে অংশ নেন। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টের বক্সিং ডে পুরোপুরি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায় ও ৬০০০০ দর্শকের আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খেলা শুরু হবার পূর্বক্ষণে বৃষ্টি আঘাত হানে। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭৮ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডিন হ্যাডলি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১২ রানে পরাজয়বরণ করলেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এ প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড দল শোচনীয় ফলাফল করে। কিছু ভালোমানের সাফল্য পেলেও দল থেকে বাদ পড়েন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও মিডলসেক্সের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন।
এপ্রিল, ২০০২ সালে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর ‘দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ সংবাদপত্রে চাকুরী নেন। এক পর্যায়ে প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মিডলসেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। ২৪ জুলাই, ২০২১ তারিখ পর্যন্ত মিডলসেক্সের ক্রিকেট পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
