|

এরিক হোলিস

৫ জুন, ১৯১২ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের ওল্ড হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩২ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বিয়ার্সের পক্ষে ২২০১ উইকেট দখল করেছিলেন। এ পর্যায়ে ১৭৩বার পাঁচ-উইকেট ও ৪০বার দশ উইকেট লাভ করেছিলেন। প্রায় সিকি শতাব্দীকাল দলের বোলিং আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন। সর্বমোট ১৯ মৌসুমের চৌদ্দটিতে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

১৯৩৫ থেকে ১৯৫০ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, খেলাগুলো থেকে পাঁচবার ৫-উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৮ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জিম স্মিথ, এরল হোমস, জর্জ পেইনজ্যাক ইডনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। ৪ উইকেটে জয় পেলে তাঁর দল চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৪ মার্চ, ১৯৩৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১* ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৬১ রানে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৪৭ সালে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ বছর অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ১৯৪৭ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/১২৩ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ১৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৪৮ সালে নিজ দেশে অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিতে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন ‘অপরাজেয়’ নামধারী অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ১৯৪৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা ডন ব্র্যাডম্যানকে শূন্য রানে বিদেয় করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখবেন। দ্বিতীয় বলে গুগলিতে আউট করার ফলে ডন ব্র্যাডম্যানের গড় ৯৯.৯৪ হয়। খেলায় তিনি ৫/১৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪৯ রানে পরাজয়বরণ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৪৯ সালে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওভাল টেস্টে দারুণ খেলেন। ৫/১৩৩ লাভ করেন। ওয়াল্টার হ্যাডলি’র মূল্যবান উইকেট পেলেও খেলায় দ্বি-শতকধারী মার্টিন ডনেলিকে বিদেয় করতে পারেননি। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। পাঁচ-উইকেট লাভের ফলে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে ঠাঁই করে নেন।

১৯৫০ সালে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। এ সিরিজটি সনি রামাদিন ও আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকলেও প্রথম টেস্টে তাঁর আট উইকেট দখলের কারণে স্বাগতিকরা সিরিজে এগিয়ে যায়। ৮ জুন, ১৯৫০ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৭০ ও ৫/৬৩ লাভ করেন। এছাড়াও, ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কারণে সফরকারীরা ২০২ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর ঐ সিরিজে আরও এক টেস্টে অংশ নেন। ২০ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৩৪ ও ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১০ উইকেটে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৫৫ সালে ‘আইল স্পিন ইউ এ টেল’ শীর্ষক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। একই বছর উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৯৫৭ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর খ্যাতনামা ক্রিকেট লেখক ইএম ওয়েলিংস মন্তব্য করেন যে, ‘তার ন্যায় নিখুঁত নিশানা বরাবর কোন ইংরেজ গুগলি বোলারের সন্ধান মেলা ভার।’

তাঁর অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে এজবাস্টনে হোলিস স্ট্যান্ড নামকরণ করা হয়। ওয়ারউইকশায়ারের সদস্য ও সমর্থকদের ৬৬% ভোট পেয়ে ‘গ্রেটেস্ট এভার বিয়ার্স স্পিনার’ হিসেবে মনোনীত হন। ১৬ এপ্রিল, ১৯৮১ তারিখে ডার্বিশায়ারের চিনলি এলাকায় ৬৮ বছর ৩১৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট