১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে ত্রিনিদাদের উডব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

খেলোয়াড় হিসেবে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে সহজাত ও আকর্ষণীয় স্ট্রোকপ্লে মারতেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দলের অধিনায়কত্ব করেন। প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালের শেল শীল্ডের উপর্যুপরী শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৯ সালে জ্যামাইকার বিপক্ষে শতক হাঁকিয়ে খ্যাতির তুঙ্গে পৌঁছেন।

১৯৬৩ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৩ সালে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ জুন, ১৯৬৩ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেরিক মারে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৬ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১০ উইকেটে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬৮ সালে কুইন্স পার্ক ওভালে স্টিফেন কামাচো’র সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ১১৯ রানের জুটি গড়েছিলেন।

১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যান। গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৯০ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। রয় ফ্রেডরিক্সের (৬) সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন ও ১০৯ রানের ব্যক্তিগত একমাত্র শতকের সন্ধান পান। দ্বিতীয় উইকেটে সেম্যুর নোর্সের (৯৫) সাথে ১৭২ রানের জুটি গড়েছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এ সফরেই নিজেকে উচ্চ স্তরের ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বিস্ময়করভাবে এ সফরের জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন ও বিস্ময়কর সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। এ সফরে ছয় টেস্টে অংশ নিয়ে ৪৯.৯৪ গড়ে ৬৪৩ রান তুলেন। এছাড়াও, সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৪৫.২৫ গড়ে ১২২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৬৯ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমনের জন্যে মনোনীত হন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। রয় ফ্রেডরিক্সের সাথে ৯২ রানের জুটি গড়েন। তবে, বিস্ময়করভাবে দল থেকে বাদ পড়েন। হাতে আঘাত নিয়েও ১৯৭১ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে বেশ ভালো খেলেন।

১৯৭১-৭২ মৌসুমে নিজ দেশে বেভান কংডনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৩ মার্চ, ১৯৭২ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপর থেকে পর্দার অন্তরালে চলে যান।

টেস্টে সব মিলিয়ে ৩৪.১৫ গড়ে ১১২৭ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, খণ্ডকালীন লেগ-স্পিনার হিসেবে আট উইকেট পেয়েছিলেন।

খেলোয়াড়ী জীবনের অর্জনের চেয়ে ব্রায়ান লারাকে চিহ্নিতকরণে সবিশেষ ভূমিকা রেখে সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় হয়ে আছেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পরও খেলার সাথে জড়িয়ে ছিলেন। কুইন্স পার্ক ক্রিকেট ক্লাবের দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপক ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ১৯৭০-এর দশক থেকে দীর্ঘদিন দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিন মেয়াদে দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অবশেষে, ২০০৬ সালে এ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পান।

স্টিফেন কামাচো তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ম্যারিওন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির মাইকেল জুনিয়র ও ডেভিড নামীয় সন্তান ছিল। রক্তজনিত সমস্যা উত্তরণে চিকিৎসাকালীন ৮ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে ত্রিনিদাদের উডব্রুক এলাকায় ৭৩ বছর ১১৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট